সিলেট টাইটান্সের হয়ে বিপিএলে খেলতে এসে ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস যেন আবারও নিজের ক্রিকেট-জীবনের নানা অধ্যায় খুলে ধরলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তার গভীর আবেগ, দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি, ইনজুরি ও অবসরের কঠিন সিদ্ধান্ত—সবকিছুই অকপটে তুলে ধরেন এই ইংলিশ তারকা।
বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচের আগে সিলেট দলে যোগ দেওয়া ওকস ইংল্যান্ডের ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তবে তার পরিচয়ের কেন্দ্রে সবসময়ই ছিল টেস্ট ক্রিকেট। নিজেও অকপটে স্বীকার করেন, টেস্টের সঙ্গে তুলনীয় কিছু তিনি কখনোই খুঁজে পাননি।
গত দুই বছর শুধুই টেস্ট ক্রিকেট খেলা এই অলরাউন্ডারের ক্যারিয়ারে হঠাৎ করেই ছেদ পড়ে গত বছরের আগস্টে। ভারতের বিপক্ষে ওভাল টেস্টে ফিল্ডিং করার সময় কাঁধে গুরুতর চোট পান তিনি। সেই চোটই কার্যত ইতি টানে তার আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারের। যদিও এরপর সুস্থ হয়ে আইএল টি-টোয়েন্টি খেলেছেন, এখন বিপিএলেও নামছেন, তবু হৃদয়ের গভীরে টেস্ট ক্রিকেটই রয়ে গেছে তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসা।
৩৬ বছর বয়সী ওকস বলেন, এখন তার পরিচয় একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটার হলেও টেস্ট ক্রিকেটের জায়গাটা কেউ নিতে পারবে না। কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা, অ্যাশেজের স্মৃতি, ওয়ানডে ক্রিকেটের বিবর্তনের অংশ হওয়া—সবই তার ক্যারিয়ারের গর্বের অধ্যায়।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তও, যখন কাঁধে চোট নিয়ে এক হাত স্লিংয়ে ঝুলিয়ে ব্যাট হাতে নামেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বের সেই মুহূর্ত নিয়ে ওকস বলেন, তখন ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, শুধু দলের জন্য কিছু করার কথাই মাথায় ছিল।
টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তার এই নিখাদ ভালোবাসার পেছনে রয়েছে শৈশব, পারিবারিক পরিবেশ আর ক্রিকেটে বেড়ে ওঠার গল্প। বাবা-মায়ের দেওয়া মূল্যবোধ, সতীর্থদের কাছ থেকে শেখা দলগত চিন্তা—সব মিলিয়েই গড়ে উঠেছে ক্রিস ওকস নামের সেই ক্রিকেটার, যিনি সবসময় নিজেকে দলের পরে রেখেছেন।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে বড় সাফল্য পেলেও নিজেকে তিনি বরাবরই টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে ভাবতে ভালোবাসেন। তার ভাষায়, সাদা পোশাকে দেশের হয়ে মাঠে নামার অনুভূতির সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না।
ক্রিকেটের এই দীর্ঘ পথচলায় ব্যাট-বলের বাইরেও ফুটবল, অ্যাস্টন ভিলা, ‘উইজার্ড’ নামের গল্প কিংবা এবি ডি ভিলিয়ার্স ও স্টিভ স্মিথের মতো ব্যাটসম্যানদের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও উঠে আসে তার কথায়।
সামনের দিনগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও কাউন্টিতে আরও কিছুদিন খেলার ইচ্ছা ওকসের। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের তরুণ পেসারদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও লুকান না তিনি। সব মিলিয়ে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা আর তৃপ্তির এক পূর্ণ গল্প শোনান ক্রিস ওকস—যেখানে টেস্ট ক্রিকেটই রয়ে গেছে তার হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু।