শ্রীলঙ্কায় যেকোনো উইকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ অবিচ্ছিন্ন ১৯১ রানের জুটি গড়লেন ব্রুক ও রুট।
আগের দুই ওয়ানডেতে ফিফটি করা জো রুট এবার খেললেন আরও বড় ইনিংস। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ইংলিশ অধিনায়ক দলের জন্য উপহার দিলেন একটি সেঞ্চুরি। অন্য প্রান্তে হ্যারি ব্রুক ঝড় তুললেন ব্যাট হাতে। দুইশর বেশি স্ট্রাইক রেটে খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
কলম্বোতে মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে জ্বলে উঠলেন রুট ও ব্রুক। তাদের নৈপুণ্যে ইংল্যান্ড গড়ল ৩৫৭ রানের বড় সংগ্রহ।
ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই প্রথম ইংল্যান্ড ৩৫০’র ওপরে পৌঁছল। ১৯৮৩ সালে টন্টনে ৩৩৩ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে রুট ১ ছক্কা ও ৯ চারে ১০৮ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন। ওয়ানডেতে এটি তার ২০তম সেঞ্চুরি। এই সংস্করণে ইংল্যান্ডের কেউ রুটের ধারেকাছে নেই; দুইয়ে ওয়েইন মর্গ্যানের ১৩টি শতক রয়েছে।
তৃতীয় ওয়ানডেতে ১৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন ব্রুক। ইংলিশ অধিনায়কের ৬৬ বলের বিস্ফোরক ইনিংসে ছিল ৯ ছক্কা ও ১১ চার। আগের সেরা ইনিংস ছিল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৫।
চতুর্থ উইকেটে রুট ও ব্রুকের অবিচ্ছিন্ন ১৯১ রানের জুটি শ্রীলঙ্কার মাটিতে যেকোনো উইকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ। এই ম্যাচে তৃতীয় উইকেটে রুটের সঙ্গে জ্যাকব বেথেলের ১২৬ রানের জুটিও ছিল পূর্ববর্তী সেরা।
ম্যাচের সপ্তম ওভারে বেন ডাকেট বিদায় নিলে ক্রিজে যান রুট। প্রথম বলে সিঙ্গল নিয়ে রানের খাতা খোলেন। পরে রেহান আহমেদ ফিরলে বেথেলকে নিয়ে রুট আরও রান যোগ করেন। ৫৪ বলে টানা তৃতীয় ফিফটিতে পা রাখেন তিনি। আগের দুই ওয়ানডেতে করেছেন ৬১ ও ৭৫ রান।
পরবর্তী ওভারে ৬৪ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন বেথেল। ৮ চারে ৬৫ রান করে বেথেল বিদায় নিলে উইকেটে যান ব্রুক। মুখোমুখি প্রথম বলে চার মেরে খাতা খুলে দেন। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ছক্কার পর চার মারেন। ৪৪তম ওভারের শেষ বলে এই লেগ স্পিনারকে ছক্কায় উড়িয়ে ৪০ বলে ফিফটি করেন ব্রুক।
পরের ওভারে রুট তিন অঙ্কের ঠিকানায় পৌঁছান। এরপর দলের রানের চাকায় দম দেন ব্রুক। ওই ওভারের শেষ দুই বলে ছক্কা ও চার মারেন। ৪৮তম ওভারে আসিথা ফার্নান্দোকে তিনটি চার মারেন ব্রুক। পরের ওভারের প্রথম বলে চার মেরে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন, যা ৫৭ বলে আসে। পঞ্চাশ থেকে শতক পৌঁছাতে তার লাগল মাত্র ১৭ বল।
সেঞ্চুরি ছুঁবার পরের দুই বলে জেফ্রি ভ্যান্ডারসেকে ছক্কা ও চার মারেন ব্রুক। ওই ওভারের শেষ বলেও চার হাঁকান। শেষ ৮ ওভারে ১২৪ রান তোলে ইংল্যান্ড, যার মধ্যে ৯৮ রান আসে ব্রুকের ব্যাট থেকে। ইনিংসের শেষ ৬৯ রানের মধ্যে রুটের অবদান মাত্র এক রান।