পাকিস্তান ক্রিকেটে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, আর সেই হাওয়ায় ভেসে আসছে নতুন এক অধিনায়কের নাম—শাদাব খান। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি মনে করেন, যদি বর্তমান প্রধান কোচ মাইক হেসন তাঁর পদে টিকে যান, তবে শাদাবই হতে যাচ্ছেন দলের পরবর্তী কাপ্তান।
আফ্রিদির এই ভাবনার পেছনে কাজ করছে পিএসএল-এর রসায়ন। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে হেসন ও শাদাব দীর্ঘ দুই বছর কোচ-অধিনায়ক হিসেবে কাজ করেছেন, যার ফলস্বরূপ ২০২৪ সালে শিরোপাও জিতেছে দলটি। এই পুরোনো ও গভীর বোঝাপড়াই শাদাবকে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।
আফ্রিদির পর্যবেক্ষণ ও শর্ত
সামা টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফ্রিদি বলেন, হেসন ও শাদাবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ‘কানেকশন’ পরবর্তী অধিনায়ক নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে শাদাবকে নিয়ে আফ্রিদির মনে একটা খটকাও আছে। তিনি সরাসরিই বললেন:
“শাদাব খারাপ পছন্দ নয়, তবে একজন পারফর্মার হিসেবে তাকে আরও ধারাবাহিক হতে হবে। সে দলের মেরুদণ্ড, এটা সত্যি। কিন্তু তাকে অধিনায়ক বলতে আমাদের তখনই ভালো লাগবে, যখন সে মাঠে পারফর্ম করে দেখাবে।”
কিছুদিন আগে সমালোচনা সইতে না পেরে শাদাব যখন পাল্টা মন্তব্য করেছিলেন, তখনো আফ্রিদি তাঁকে কড়া ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছিলেন—আগে বড় ম্যাচে পারফর্ম করে দেখাও বাছা!
মাঠের পারফরম্যান্স ও প্রশ্নচিহ্ন
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শাদাবের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট সুযোগ আছে। এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ৫ উইকেট নিলেও সেগুলো এসেছে যুক্তরাষ্ট্র বা নামিবিয়ার মতো তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে। বড় ম্যাচগুলোতে তিনি ছিলেন অনুজ্জ্বল; ভারতের বিপক্ষে মাত্র ১ ওভার বল করে দিয়েছেন ১৭ রান, আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ওভারে খরচ করেছেন ৩১।
খাদের কিনারায় পাকিস্তান ও অধিনায়ক সালমান
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অবস্থাও তথৈবচ। সেমিফাইনালের আশা এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। শনিবার শ্রীলঙ্কাকে কেবল হারালেই হবে না, মেলাতে হবে রানরেটের কঠিন সমীকরণও। টানা ব্যর্থতায় বর্তমান অধিনায়ক সালমান আলি আগার ওপর দিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর তাঁর পরিবারকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সালমানের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আফ্রিদির আগে শোয়েব মালিকও শাদাবকে সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে সামনে এনেছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে শাদাবের, যার মধ্যে দুটিতে জিতেছিল দল।