বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরুর ঠিক আগের দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে দেখা গেল এক অন্যরকম দৃশ্য। মিরপুরের চিরচেনা সেই কালচে উইকেট যেন উধাও; তার বদলে উইকেটে ফুটে উঠেছে সবুজ ঘাসের ছোঁয়া। উইকেট দেখে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা বেশ লম্বা সময় সেটি পর্যবেক্ষণ করলেন—হয়তো কিছুটা অবাকও হয়েছেন। কারণ, মিরপুরের উইকেটে এমন সবুজাভ আভা নিশ্চিতভাবেই তাদের প্রত্যাশার বাইরে ছিল।
উইকেটের এই রূপ দেখে একে মিরপুরের চেয়ে বরং নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন কিংবা ক্রাইস্টচার্চের উইকেট বললেও ভুল হবে না। তবে বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে এটি খুব একটা বিস্ময়ের নয়। গত পাকিস্তান সিরিজেও এমন ‘স্পোর্টিং’ উইকেটে খেলেই সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও স্পিন-ফাঁদ না পেতে একই চ্যালেঞ্জ নিতে চাইছে স্বাগতিকরা।
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে কোচ ফিল সিমন্স এমন উইকেটের প্রত্যাশা করেছিলেন। ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও সুর মেলালেন কোচের সাথে। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সিরিজে আমরা খুব ভালো উইকেটে খেলেছি এবং এই সিরিজেও তেমনটাই চেষ্টা করব। উইকেট তো ‘ট্রু’ ছিল, এখন সব কিছু নির্ভর করছে পারফরম্যান্সের ওপর। মানসিকভাবে প্রস্তুত থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারাটাই এখন আসল কাজ।”
এদিকে দেশ ছাড়ার আগে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম জানিয়েছিলেন, তারা বাংলাদেশের স্পিন চ্যালেঞ্জ সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েই আসছেন। মিরপুরের ঘাসঢাকা উইকেট দেখে তার কিছুটা স্বস্তি পাওয়ারই কথা, তবে ল্যাথাম জানেন এই কন্ডিশনে স্পিনারদের ভূমিকা সবসময়ই থাকে। তার মতে, “উইকেট দেখে বেশ ভালোই মনে হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এখন দারুণ ক্রিকেট খেলছে এবং আমাদের কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।”
উইকেটের চেয়ে ল্যাথামকে বেশি ভাবাচ্ছে বাংলাদেশের তীব্র গরম। কিউই অধিনায়ক রসিকতা করে বলেন, “নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এখানকার আবহাওয়া একদম ভিন্ন। প্রচণ্ড গরমে টিকে থাকতে আমাদের সবটুকু শক্তি নিংড়ে দিতে হবে। কাল হয়তো আমাদের স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকবার বেশি পানি পানের বিরতি নিতে হতে পারে!”