ব্যাটিংয়ে যখন বাংলাদেশের চলছে চরম দুর্দশা, পেস আক্রমণে তখন জায়গার লড়াই তীব্র। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, গত ম্যাচের সেরা বোলার শরিফুল ইসলামেরও জায়গা নিশ্চিত নয় পরের ম্যাচে।
মুস্তাফিজুর রহমানের চোটের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করতেই শরিফুল জানালেন, “উনি এখন মোটামুটি সুস্থ…।” এই উত্তরের পর অবধারিতভাবেই প্রশ্ন চলে আসে—তাহলে কি শরিফুল পরের ম্যাচে একাদশে থাকছেন? এই প্রশ্নের উত্তর টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে থাকলেও শরিফুলকে তো আর তা জিজ্ঞেস করা যায় না!
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মুস্তাফিজ হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করায় শেষ মুহূর্তে একাদশে সুযোগ পান শরিফুল। দীর্ঘ ১৬ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন এই বাঁহাতি পেসার; দলের সেরা বোলার ছিলেন তিনিই। কিন্তু এখন মুস্তাফিজ ফিট হয়ে ওঠায় শরিফুলকেই হয়তো আবার জায়গা ছেড়ে দিতে হতে পারে।
সাধারণ সমীকরণ বলে, মুস্তাফিজকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা দেখালে পেস আক্রমণ অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কিন্তু সিরিজে ফেরার জন্য এই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই বাংলাদেশের। তাই দলের অভিজ্ঞ ও সফলতম বোলারকে একাদশে চাইতেই পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। আর সেটি হলে কপাল পুড়বে কার?
যাকেই একাদশের বাইরে রাখা হোক, সেটি হবে চরম দুর্ভাগ্যের। তবে কাউকে না কাউকে বাইরে থাকতেই হবে—পেস আক্রমণের এই চিত্র গত কয়েক বছর ধরেই দেখছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে যেখানে যোগ্য বিকল্প খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে পেস আক্রমণে প্রতিযোগিতা এতটাই তুঙ্গে যে, ‘কাকে রেখে কাকে খেলাবে’ সেই মধুর সমস্যায় পড়তে হয় নির্বাচকদের।
দীর্ঘদিন ওয়ানডে ফরম্যাটে সুযোগ না পেলেও শরিফুল বিষয়টি নিয়ে একদমই হতাশ নন। দলের ভেতরের এই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। শরিফুল বলেন, “এখানে হতাশার কিছু নেই। যারা খেলছে সবাই ভালো করছে। আমাদের ক্রিকেটের জন্য এটা ভালো দিক যে, কোনো ক্রিকেটার ইনজুরিতে পড়লে বা বাইরে গেলে নতুন কেউ এসে সেই অভাব পূরণ করতে পারছে।”
পরের ম্যাচে যদি বাদ পড়তে হয়, তার জন্যও মানসিক প্রস্তুতি আছে এই পেসারের। বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে রেটিং পয়েন্ট বাড়ানো এখন দলের প্রধান লক্ষ্য, তাই টিম ম্যানেজমেন্টের সেরা একাদশ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন তিনি।
বোলাররা নিয়মিত ভালো করলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় প্রায়ই ডুবতে হয় বাংলাদেশকে। তবে সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে রাজি নন শরিফুল। তিনি বলেন, “হারলে যেমন আমাদের খারাপ লাগে, ব্যাটসম্যানদেরও তেমনি খারাপ লাগে। আমরা যদি আরও একটু ভালো বোলিং করতাম, হয়তো তাদের জন্য কাজটা সহজ হতো। আশা করি পরের ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা ঘুরে দাঁড়াবে এবং আমরা দলগতভাবে ম্যাচ জিতব।”