ম্যানচেস্টার সিটির গত আট মৌসুমের সোনালী পথচলার অন্যতম রূপকার বের্নার্দো সিলভা। এই পর্তুগিজ প্লেমেকারের ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তে বেশ ব্যথিত কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। তাঁর মনে হচ্ছে, সিলভার চলে যাওয়া মানে যেন ‘নিজের শরীরের একটি অংশ’ হারিয়ে ফেলা।
চলতি মৌসুম শেষেই সিলভা ইতিহাদ স্টেডিয়াম ছাড়ছেন—চলতি মাসের শুরুতে সিটির সহকারী কোচ পেপ লাইন্ডার্স এমন আভাস দিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সিলভা নিজেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। ৯ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় সিটির হয়ে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ১৯টি ট্রফি জিতেছেন তিনি। চলতি মৌসুমেও ইতোমধ্যে লিগ কাপ ঘরে তুলেছে সিটি। গুয়ার্দিওলা চান, এই কিংবদন্তির বিদায়টা যেন আরও কিছু ট্রফি জিতে রাজকীয় হয়।
রোববার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে সিটি। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গুয়ার্দিওলা বলেন, “সিলভাকে বিদায় জানানো কি সবচেয়ে কঠিন হতে যাচ্ছে? অবশ্যই। গত কয়েক বছরে অনেক বড় বড় খেলোয়াড় চলে গেছে, তবে সিলভার চলে যাওয়াটা এমন যে, মনে হচ্ছে আমার নিজের একটা অংশও চলে যাচ্ছে।”
গুয়ার্দিওলা আরও যোগ করেন, “তাঁকে ছাড়া এই ক্লাবকে কল্পনা করা সত্যিই কঠিন। এই ৯ বছরে সে যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। সে ভীষণ, ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। আমরা একসঙ্গে অনেক কিছু জিতেছি, সামনে আরও দুটি শিরোপার সুযোগ আছে এবং আমরা নিশ্চিতভাবেই সেগুলো জেতার আপ্রাণ চেষ্টা করব।”
গত ১২ মাসে কাইল ওয়াকার, ইলকাই গিনদোয়ান, এদেনসন ও কেভিন ডে ব্রুইনের মতো তারকারা ইতিহাদ ছেড়েছেন। এবার সেই মিছিলে যোগ দিচ্ছেন সিলভাও, যিনি সিটির হয়ে ৪৫১ ম্যাচে ৭৬টি গোল ও ৭৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন।
তবে অভিজ্ঞদের বিদায়ে সিটি এখন নতুন রক্তে উজ্জীবিত। হায়ান শেহকি, টিজানি রেইন্ডার্স, অ্যান্টোয়ান সেমেনিও ও মার্ক গেয়ির মতো নতুন মুখগুলো দলের গভীরতা বাড়িয়েছে। এছাড়া নিকো ও’রাইলি ও আব্দুখোদির কুজানভদের মতো তরুণরা নিয়মিত একাদশে জায়গা করে নিচ্ছেন। এই নতুন ও পুরাতনের মিশেলে গত ছয় মৌসুমে নিজেদের পঞ্চম লিগ শিরোপা জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী গুয়ার্দিওলা।