অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যখন টসের জন্য মাঠের দিকে যাচ্ছিলেন, শরিফুল ইসলাম তখন ফিরছিলেন ড্রেসিংরুমের দিকে। একাদশে নাম ছিল না বলে ব্যাগ গুছিয়ে পানি আর তোয়ালে টানার প্রস্তুতিই নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু টসের ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে দৃশ্যপট বদলে গেল—জানতে পারলেন, দ্বাদশ ব্যক্তি নয়, মাঠের লড়াইয়ে নামতে হবে তাকেই! প্রস্তুতির জন্য হাতে একদমই সময় ছিল না, তবে শরিফুল জানতেন, এই সুযোগটি তাকে যেকোনো মূল্যে কাজে লাগাতে হবে।
সুযোগটি তিনি কেবল কাজে লাগাননি, বরং রাঙিয়ে দিয়েছেন রাজকীয়ভাবে। দীর্ঘ ১৬ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২৭ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট; দলের সেরা বোলার ছিলেন তিনিই।
আসলে মূল একাদশে পেস আক্রমণে থাকার কথা ছিল তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার। কিন্তু টসের ঠিক আগমুহূর্তে মুস্তাফিজ ডান হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করায় ছিটকে যান। মিরাজ ততক্ষণে টস করতে চলে যাওয়ায় কোচ ফিল সিমন্স দ্রুত গিয়ে পরিবর্তিত খেলোয়াড় তালিকা তাঁর হাতে পৌঁছে দেন। সেখানেই মুস্তাফিজের জায়গায় যুক্ত করা হয় শরিফুলকে।
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সেই নাটকীয় মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করলেন শরিফুল। তিনি বলেন, “টস হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আমাকে জানানো হলো যে আমি খেলছি। রিশাদ তখন পাশ থেকে বলল, ‘হয়তো তোমার রিজিকেই ছিল।’ আমি ওই অবস্থাতেই দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে রানআপ মেপে নিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর ইচ্ছায় সুযোগটা পেয়েছি।”
গত বছর টি-টোয়েন্টিতে ১৭টি ম্যাচ খেললেও ওয়ানডেতে ব্রাত্যই ছিলেন শরিফুল। তবে হাল ছাড়েননি; বিপিএলে রেকর্ড উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া এবং পিএসএলে ভালো করার পুরস্কার হিসেবেই আবার ওয়ানডে দলে ফেরেন তিনি। নিজের এই ফেরা নিয়ে শরিফুল বলেন, “সবশেষ ২০২৪-এর ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেছিলাম। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও বাইরে থাকতে হয়েছে। তবে আমি সব সময় নিজের বেসিক কাজগুলো ঠিকঠাক করার চেষ্টা করি। নিজের সঙ্গে নিজে লড়াই করেছি যাতে সুযোগ এলে সেরাটা দিতে পারি।”
ব্যক্তিগতভাবে ফেরার ম্যাচটি দারুণ কাটলেও দলের পরাজয় শরিফুলের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “বোলিংটা মোটামুটি ভালোই হয়েছে, কিন্তু দিনশেষে দল যেহেতু হেরেছে, তাই খারাপ লাগা তো থাকবেই।”