ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীতের জন্য যখন দুই দলের ক্রিকেটাররা মাঠে প্রবেশ করলেন, ঠিক তাঁদের পেছনেই দেখা গেল একদল হাসিখুশি কিশোর-কিশোরীকে। আকাশী রঙের টি-শার্ট আর ট্রাউজার পরা এই খুদে দলটি বাউন্ডারি সীমানার বাইরে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল। খেলা শুরুর ঠিক আগে তারা ছড়িয়ে পড়ল মাঠের চারপ্রান্তে। গ্যালারি থেকে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের বুঝতে বাকি রইল না যে—অনেক বছর পর দেশের ক্রিকেটে ফিরে এসেছে ‘বল বয়’ সংস্কৃতি।
এক সময় ক্রিকেট ম্যাচের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এই বল বয়রা। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটের চাকচিক্য আর সময়ের পরিবর্তনে এই সুন্দর ঐতিহ্যটি প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। বাংলাদেশে সেই পুরনো স্মৃতিকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। মূলত তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহ ও উদ্যোগেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে আবারও মাঠে দেখা গেল বল বয়দের।
কদিন আগে মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালেই তামিম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি এই সংস্কৃতিটি পুনরায় চালু করতে চান। তবে ফিরে এলেও এদেরকে গতানুগতিক ‘বল বয়’ নামে ডাকতে নারাজ তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিসিবি সভাপতি এই খুদেদের নিয়ে তাঁর ভিন্নধর্মী ভাবনার কথা শেয়ার করেছেন।
তামিম লিখেছেন, “‘বল বয়’ শব্দটা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে কখনোই খুব একটা সম্মানজনক মনে হতো না। এই শিশুরাই আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। তাই আমি ওদের বলতে চাই ‘ফিউচার স্টার্স’ (ভবিষ্যৎ তারকা)। আমার বিশ্বাস, বাউন্ডারি লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রিয় ক্রিকেটারদের খুব কাছ থেকে দেখে ওরা অনুপ্রাণিত হবে। ওদের স্বপ্নের পরিধি আরও বড় হবে এবং একদিন ওরাই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামবে।”
নিজের আবেগঘন স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আমিও এক সময় ঠিক ওদের মতোই ছিলাম—তুলে দিতাম বড়দের বল। আমিও তো এক সময় ‘বল বয়’ ছিলাম।”
সাধারণত স্থানীয় বিভিন্ন ক্রিকেট একাডেমির উদীয়মান ক্রিকেটারদেরই এই কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়। ক্রিকেট ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল কিংবা খোদ তামিম ইকবাল নিজেও ছেলেবেলায় বল বয় হিসেবে মাঠের ঘাস মাড়িয়েছেন। আজ সেই ছোটরা মাঠে বল কুড়াচ্ছে বলেই হয়তো আগামীর জন্য একঝাঁক নতুন ‘তামিম’ তৈরি হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।