১০ ওভার তখন সবে শেষ হয়েছে। অদ্ভুতুড়ে এক ইনিংস খেলে তানজিদ হাসান যখন সাজঘরে ফিরলেন, বাংলাদেশ তখন প্রবল চাপে। লক্ষ্যটা পাহাড়সম মনে হচ্ছিল, জয়ের আশাটাও যেন ফিকে হয়ে আসছিল। কিন্তু তাওহিদ হৃদয় আর পারভেজ হোসেন ইমন হয়তো মনে মনে অন্য কিছু ছকছিলেন। অসাধারণ এক পালটা আক্রমণে মুহূর্তের মধ্যে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিলেন এই দুজন। পরে শামীম হোসেনের সেই খুনে ব্যাটিং! মাঝপথ পর্যন্ত ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ অবিশ্বাস্যভাবে দুই ওভার বাকি থাকতেই রেকর্ড গড়ে ম্যাচ জিতে নিল।
তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সোমবার কিউইদের ১৮২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ জিতেছে স্রেফ দাপট দেখিয়ে।
রান তাড়ায় জয়ের নায়ক তাওহিদ হৃদয় মাত্র ২৭ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১৪ বলে ২৮ রান করেন পারভেজ ইমন। আর ফিনিশার হিসেবে নিজের জাত চিনিয়ে শামীম হোসেন অপরাজিত ৩১ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন মাত্র ১৩ বলে। বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম ৯ ওভারে যেখানে উঠেছিল ৬৬ রান, সেখানে পরের ৮ ওভারেই তারা তুলে নেয় ১১৭ রান! এটি দেশের মাটিতে রান তাড়া করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জয়।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ড প্রথম ওভার থেকেই আগ্রাসী শুরু করে। তাওহিদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে টিম রবিনসন দ্রুত রান আউট হলেও ডেন ক্লেভার (৫১) আর জশ ক্লার্কের (৫১) জোড়া ফিফটিতে শক্ত ভিত পায় কিউইরা। মাঝে রিশাদ হোসেনের জোড়া আঘাত আর তানজিম সাকিবের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের রানের গতি কিছুটা কমলেও অধিনায়ক নিক কেলি (৩৯) ও জশ ক্লার্কসনের (২৭*) ব্যাটে ভর করে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় তারা। অভিষেক ম্যাচে পেসার রিপন মন্ডল উইকেট না পেলেও তাঁর ইয়র্কারগুলো ছিল চোখে পড়ার মতো।
জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল কিছুটা ধীরগতির। সাইফ হাসান (১৭) ও লিটন দাস (২১) থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। টেস্ট দলে ডাক পাওয়া তানজিদ হাসান তো ২৫ বলে ২০ রানের এক ক্লান্তিকর ইনিংস খেলে চাপ আরও বাড়িয়ে দেন। কিন্তু হৃদয় ও পারভেজ ইমন মাঠে নামতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। ইশ সোধি থেকে শুরু করে ক্লার্কসন—সবার ওপরই চড়াও হন তাঁরা। পারভেজ আউট হওয়ার পর শামীম হোসেন এসে যেন আগুনের ওপর ঘি ঢাললেন! ন্যাথান স্মিথের বলে তাঁর সেই ‘নো লুক’ ছক্কা গ্যালারির দর্শকদের পাগল করে দেয়। ফিশারের এক ওভার থেকেই ২৫ রান তুলে নিয়ে জয়টা হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন শামীম।
সিরিজের পরের ম্যাচ বুধবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (ক্লার্ক ৫১, রবিনসন ০, ক্লেভার ৫১, কেলি ৩৯, জ্যাকবস ১, ফক্সক্রফট ৩, ক্লার্কসন ২৭*, স্মিথ ২*; শরিফুল ৪-০-৩৬-১, তানজিম ৪-০-৪০-১, রিপন ৪-০-৩৯-০, মেহেদি ৪-০-৩১-১, রিশাদ ৪-০-৩২-২)।
বাংলাদেশ: ১৮ ওভারে ১৮৩/৪ (সাইফ ১৭, তানজিদ ২০, লিটন ২১, হৃদয় ৫১*, পারভেজ ২৮, শামীম ৩১*; স্মিথ ৩-০-৩৩-১, ফিশার ৪-০-৫৩-০, লিস্টার ৪-০-২৩-০, সোধি ৪-০-৪০-২, ক্লার্কসন ৩-০-২৮-১)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: তাওহিদ হৃদয় ।