নাহিদ রানাকে ঠিক কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেই জাদুর কাঠি যেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হাতেই আছে। ক্যারিয়ারের ১০টি টেস্টের মধ্যে ৯টিই শান্তর অধীনে খেলেছেন নাহিদ। তবুও এই গতির দানবকে নিয়ে অধিনায়কের রোমাঞ্চে এখনো একটুও ভাটা পড়েনি। বরং এমন একজন এক্সপ্রেস পেসারকে দলে পেয়ে শান্ত যেমন রোমাঞ্চিত, তেমনি তাকে সঠিক উপায়ে কাজে লাগানোর ব্যাপারেও দারুণ আত্মবিশ্বাসী। আর হবেই না কেন, তাঁদের এই রসায়ন তো আর আজকের নয়!
বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্ব নাহিদ রানাকে চিনেছে খুব বেশি দিন হয়নি, কিন্তু শান্তর সাথে তাঁর সম্পর্কটা বহু বছরের পুরনো। দুজনের বেড়ে ওঠার গল্পটা শুরু হয়েছিল একই শেকড় থেকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাহিদ যখন ক্রিকেটের সিঁড়িগুলো একে একে পার হচ্ছিলেন, রাজশাহীর শান্ত তখন খুব কাছ থেকে সেই লড়াই দেখেছেন। ২৩ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলারের শক্তির জায়গা আর সীমাবদ্ধতাগুলো তাই ২৭ বছর বয়সী শান্তর নখদর্পণে।
বর্তমানে নাহিদ রানা দেশের ক্রিকেটের এক বড় বিজ্ঞাপন, ইতিহাসের দ্রুততম বোলার। এমন গতির বোলারকে মাঠের লড়াইয়ে বুদ্ধিদীপ্তভাবে ব্যবহার করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে শান্ত খোলাখুলিই বললেন সেই গভীর বোঝাপড়ার কথা।
শান্তর ভাষায়, “রানাকে আমি একদম ছোটবেলা থেকে চিনি, যখন হয়তো ওর কথা কেউ জানতও না। ও কী চিন্তা করে বা নিজেকে কীভাবে তৈরি করে, তা আমার খুব ভালো জানা। ওকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমার মনে তাই কোনো দ্বিধা নেই; এটা আমার জন্য বড় একটা প্লাস পয়েন্ট।”
২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানের সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা ছিল নাহিদ রানার। দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর সেই বিধ্বংসী স্পেলই মূলত খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সময়ের সাথে নাহিদ এখন আরও ধারালো, আরও পরিণত। পিএসএল বা ঘরোয়া সাদা বলের ক্রিকেটেও তাঁর আগুনে বোলিংয়ের উত্তাপ টের পেয়েছে ব্যাটাররা।
শান্ত আশা করছেন, নাহিদ রানার এই গতির ঝড় আসন্ন সিরিজেও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “একজন অধিনায়কের জন্য এমন এক্সপ্রেস পেসার থাকাটা অনেক বড় সুবিধা। নাহিদ টেস্টে এখনো নতুন হলেও সে দারুণ রোমাঞ্চকর। আশা করি, সে তাঁর বর্তমান ফর্ম ধরে রাখবে এবং সিরিজে নিজের সেরাটা দেবে।”