ডেলিভারিটা আহামরি কিছু ছিল না, কিন্তু সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইস যেন কিছুটা খেই হারিয়ে ফেললেন। পা না নাড়িয়েই ব্যাট চালিয়ে দিলেন আর বল স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে জমা হতেই উল্লাসে মেতে উঠলেন তাসকিন আহমেদ। এই উইকেটের মাধ্যমেই দীর্ঘ এক অপেক্ষার অবসান ঘটালেন এই স্পিডস্টার।
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন সকালে আজানকে ফিরিয়ে শুধু শতরানের জুটিই ভাঙেননি তাসকিন, পূর্ণ করেছেন টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৫০তম উইকেট। বিশ্ব ক্রিকেটে ৫০ উইকেট খুব বড় কোনো মাইলফলক না হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক অর্জন। কারণ, ১৭ বছর পর দেশের মাত্র তৃতীয় পেসার হিসেবে এই উচ্চতায় পা রাখলেন তিনি।
পেসারদের সেই আক্ষেপের ইতি
বাংলাদেশের হয়ে প্রথম পেসার হিসেবে ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফতুল্লা টেস্টে সেই নজির গড়েছিলেন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে লঙ্কানদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে মাশরাফির সঙ্গী হন শাহাদাত হোসেন রাজিব। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ দেড় যুগ, কিন্তু বাংলাদেশের আর কোনো পেসার এই তালিকায় নাম লেখাতে পারেননি। অবশেষে তাসকিন সেই বন্ধ্যাত্ব ঘোচালেন।
সবচেয়ে দ্রুততম তাসকিন
মজার ব্যাপার হলো, মাশরাফি বা শাহাদাতের চেয়েও কম ম্যাচ খেলে এই রেকর্ড গড়েছেন তাসকিন।
- তাসকিন আহমেদ: ১৮ টেস্ট
- মাশরাফি বিন মুর্তজা: ১৯ টেস্ট
- শাহাদাত হোসেন: ২১ টেস্ট
ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা
২০১৭ সালে অভিষেক হলেও তাসকিনের টেস্ট ক্যারিয়ারটা মোটেও মসৃণ ছিল না। বারবার চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে তাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বেশ ধারালো হয়ে উঠেছেন। গত নভেম্বরে উইন্ডিজ সফরে ১১ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হওয়ার পর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে বিরতিতে ছিলেন। প্রায় দেড় বছর পর লাল বলের ক্রিকেটে ফিরেই আজান ও পরে পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদকে ফিরিয়ে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিলেন ৩১ বছর বয়সী এই পেসার।
এখন ৭৮ উইকেট নিয়ে শীর্ষে থাকা মাশরাফি আর ৭২ উইকেট নেওয়া শাহাদাতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পালা তাসকিনের।