রেকর্ডে ঠাসা ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য পালক যুক্ত করলেন লিওনেল মেসি। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে গত ম্যাচেই ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন, আর এবার মাঠের পারফরম্যান্সে পূর্ণ করলেন গোলের সেঞ্চুরি। আগের সব রেকর্ড দুমড়েমুচড়ে দিয়ে আর্জেন্টাইন জাদুকর আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি অনন্য।
শনিবার মেজর লিগ সকারে টরন্টো এফসির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৪-২ গোলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মেসি। দলের চারটি গোলের তিনটিতেই ছিল তার অবদান—নিজে করেছেন একটি গোল, আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই এমএলএস-এর নিয়মিত মৌসুমে ১০০ গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড গড়লেন তিনি। অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, এই মাইলফলকে পৌঁছাতে মেসি ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ৬৪টি!
ভেঙে দিলেন জুভিনকোর রেকর্ড
মেজর লিগ সকারে দ্রুততম ১০০ গোলে অবদান রাখার আগের রেকর্ডটি ছিল ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড সেবাস্টিয়ান জুভিনকোর। টরন্টো এফসির হয়ে খেলা এই তারকা ৯৫ ম্যাচে ওই কীর্তি গড়েছিলেন। মেসি তাকে ছাড়িয়ে গেলেন ৩১ ম্যাচ হাতে রেখেই।
ম্যাচের উত্তেজনা ও মেসির স্বস্তি
টরন্টোর মাঠে প্রথমার্ধে ১-০ তে এগিয়ে থাকা মায়ামি ম্যাচের ৭৫ মিনিটের মধ্যে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধান তৈরি করে ফেলে। তবে শেষের দিকে টরন্টো জোড়া গোল করলে কিছুটা স্নায়ুচাপ তৈরি হয়। গত ম্যাচে ৩-০ তে এগিয়ে থেকেও ৪-৩ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল মায়ামিকে, সেই আতঙ্ক কিছুটা কাজ করলেও এবার আর ভুল করেনি মেসির দল। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন:
“ম্যাচটা বেশ কঠিন ছিল, বিশেষ করে প্রথমার্ধে লড়াই করতে হয়েছে আমাদের। সাম্প্রতিক কিছু ফলাফল আমাদের পক্ষে ছিল না, তাই এই জয়টা দলের আত্মবিশ্বাসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
মায়ামিতে মেসির সোনালি অধ্যায়
২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্লাবটির ইতিহাস বদলে দিয়েছেন মেসি। অধিনায়ক হিসেবে ক্লাবকে এনে দিয়েছেন চারটি ঐতিহাসিক ট্রফি—২০২৩ সালের লিগস কাপ, ২০২৪ সালের সাপোর্টার্স শিল্ড এবং ২০২৫ সালের ইস্টার্ন কনফারেন্স ও এমএলএস কাপ। ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২৫ সালের গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি লিগের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই মৌসুমে ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন এই মহাতারকা।