মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে বল হাতে নাহিদ রানার আগুনের গোলার সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার দুয়েক দর্শক যখন ‘নাহিদ…নাহিদ’ চিৎকারে মিরপুর প্রকম্পিত করছেন, তখন মাঠের মাঝখানে গতির ঝড় তুলছেন এই তরুণ পেসার। গতি, বাউন্স আর রিভার্স সুইংয়ের এক অনবদ্য মহাকাব্যে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে গুঁড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও, নিজেদের আঙিনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। মঙ্গলবার শেষ বিকেলের আলো ম্লান হয়ে আসার আগেই ২৩.১ ওভার হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
নাহিদ রানার ঐতিহাসিক স্পেল
২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নামা পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১৬৩ রানে। দুই বছর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষেই টেস্টে আগমণী বার্তা দেওয়া নাহিদ রানা এবার হয়ে উঠলেন আরও বিধ্বংসী। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪০ রানে ৫ উইকেট নিলেন তিনি। ২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো পেসার চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন। নাহিদের গতির তোড়েই পাকিস্তানের শেষ ৫ উইকেটের পতন ঘটে মাত্র ১১ রানে।
শান্তর আক্ষেপ ও ইনিংস ঘোষণা
সকালে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে খেলা শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও ৮৭ রানে আউট হন। দলের প্রয়োজনে দ্রুত রান তোলার তাড়ায় রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে তিনি বিদায় নেন। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ (২৪) ও তাসকিন আহমেদের ছোট দুটি ক্যামিও লিড বাড়িয়ে নিতে সাহায্য করে।
পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তাসকিনের বলে ইমাম-উল-হাককে হারায় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইসকে (১৫) বোল্ড করে প্রতিরোধ ভাঙেন মিরাজ। তবে অন্য ওপেনার আব্দুল্লাহ ফাজাল অভিষেকেই টানা দ্বিতীয় ফিফটি (৬৬) করে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন।
চা-বিরতির পর তাইজুল ইসলামের স্পিন ভেলকিতে ফাজাল বিদায় নিলে জয়ের পথ পরিষ্কার হয় বাংলাদেশের। এরপর শুরু হয় নাহিদ রানা শো। ১৪৭.২ কিলোমিটার গতির এক অবিশ্বাস্য রিভার্স সুইংয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসান তিনি। একে একে নোমান আলি ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন নাহিদ।
তাসকিন আহমেদ ২টি এবং তাইজুল ইসলামও ২ উইকেট নিয়ে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। ম্যাচে ১৮৮ রান (১০১ ও ৮৭) করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩
- পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬
- বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ২৪০/৯ (ডিক্লে.) (শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, মিরাজ ২৪)
- পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ১৬৩/১০ (ফাজাল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ ৫/৪০, তাসকিন ২/৪০, তাইজুল ২/২২)
- ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।