সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন গিয়ের্মো ওচোয়া। মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের এই ‘আইকনিক’ গোলরক্ষক এখন ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামার প্রহর গুনছেন। মেক্সিকোর অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়ে তিনি জানালেন, দেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর ডাক পেলে এখনও তিনি সেই পুরনো উত্তেজনা ও আগুনের আঁচ অনুভব করেন।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেক্সিকো দল তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করেছে। ৪০ বছর বয়সী ওচোয়া গত সোমবার নিজেই ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুন কোচ হাভিয়ের আগিরের ঘোষিত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে ওচোয়ার জায়গা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।
রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে ওচোয়া
২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পা রেখেছিলেন ওচোয়া। এরপর একে একে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের আসরে মেক্সিকোর গোলপোস্ট সামলেছেন তিনি। এবার মাঠে নামলে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো তিনিও সর্বোচ্চ ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ডের মালিক হবেন।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে ওচোয়া বলেন:
“জাতীয় দলের জার্সি পরাটা কখনোই গতানুগতিক কোনো বিষয় নয়, এটি সবসময়ই বিশেষ সম্মানের। আজ হয়তো আমার শেষ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হলো, তবে এবার আমি সব কিছু ভিন্নভাবে দেখছি।”
বিদায়ের ইঙ্গিত ও স্মৃতিচারণ
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপ দিয়েই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ওচোয়া। দেশের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামতে মুখিয়ে আছেন তিনি। মেক্সিকোর জার্সিতে ১৫২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষকের ঝুলিতে আছে ৬৫টি ‘ক্লিন শিট’। ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার অতিমানবীয় কিছু সেভ কিংবা গত বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের রবের্ত লেভানদোভস্কির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেওয়া—ফুটবল ভক্তদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
আগামী ১১ জুন পর্দা উঠবে এবারের বিশ্বকাপের। মেক্সিকো তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।