বদলি খেলোয়াড় নামানো নিয়ে মাঠের ভেতর ঘটে যাওয়া নাটক আর বিতর্ক তো ম্যাচেই যা হওয়ার হয়ে গেছে। তবে ম্যাচের পর যেন সব ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সমালোচকদের ওপর। নিজের চোট এবং মানসিকতা নিয়ে যাঁরা এত দিন প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা সাফ জানিয়ে দিলেন—বিশ্বকাপের জন্য তিনি শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত।
সোমবারই ঘোষণা করা হবে ব্রাজিলের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল। সেই স্কোয়াডে নেইমারের জায়গা হবে কি না, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন কৌতূহলের শেষ নেই। গত বেশ কিছুদিন ধরে ফুটবলপাড়ায় ঘুরেফিরে এই একই আলোচনা চলছে। এখন শুধু অফিশিয়াল উত্তরের অপেক্ষা।
দল ঘোষণার আগে নিজেকে মেলে ধরার শেষ সুযোগ ছিল রবিবার। ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে করিচিবার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। কিন্তু ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে নাটকীয়ভাবে তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়, যা মূলত ছিল চতুর্থ রেফারির এক মস্ত বড় ভুল।
নেইমারকে যখন মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল, তখনই তিনি অভিযোগ করেন যে বদলির সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে রেফারিরা তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। আসলে তাঁর সতীর্থ গন্সালো এসকোবার পায়ের মাংসপেশির চিকিৎসার জন্য সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে গেলে রেফারিরা ভুলবশত নেইমারকেই তুলে নেন।
চতুর্থ রেফারি যখন বোর্ডে নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি প্রদর্শন করে তাঁর জায়গায় রবিনিয়ো জুনিয়রকে মাঠে নামান, তখন নেইমার মাঠে ফিরে আসার চেষ্টা করায় উল্টো হলুদ কার্ড দেখেন। এরপরই তিনি তীব্র প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়েন। রেফারিরা তাঁর কোনো যুক্তি শুনতে রাজি না হলে চরম হতাশ নেইমার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বদলির অফিশিয়াল স্লিপটি ছিনিয়ে নিয়ে সরাসরি টিভি ক্যামেরার সামনে ধরেন। তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে স্লিপে তাঁর নয়, বরং এসকোবারের নামই লেখা ছিল।
তবে এই প্রতিবাদে কোনো লাভ হয়নি। ক্ষুব্ধ ও হতাশ নেইমারকে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তেই হয়। যাওয়ার আগে তিনি অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটি তুলে দেন সেই এসকোবারের হাতে। ম্যাচটিতে সান্তোস প্রথমার্ধের তিন গোলেই হেরে যায়।
ম্যাচ শেষে নেইমারের কাছে মূল প্রশ্নটি ছিল বিশ্বকাপ দলে তাঁর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। সেখানে আশাবাদ জানানোর পাশাপাশি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ক্ষোভ প্রকাশ করেন সমালোচকদের ওপর, “শারীরিকভাবে আমি দারুণ অবস্থায় আছি। পুরোপুরি ফিট এবং প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে আমার পারফরম্যান্স আরও উন্নত হচ্ছে। মাঠে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি—তবে কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। সত্যি বলতে, এটা খুবই কঠিন ছিল।”
সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে নেইমার আরও বলেন:
“বছরের পর বছর ধরে আমি যে কঠোর পরিশ্রম করেছি, এটি তারই ফল। অথচ আমার শারীরিক অবস্থা এবং পারফরম্যান্স নিয়ে চারপাশে কত ‘ননসেন্স’ কথা বলা হয়েছে! মানুষ যেভাবে এসব নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করে, তা সত্যিই দুঃখজনক। আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি… একদম নীরবে, নিজের বাড়িতে বসে। মানুষের এসব কথার কারণে ভেতরে ভেতরে কষ্ট পেয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে।”
নেইমারের মতে, নিজের শতভাগ উজাড় করে তিনি চেষ্টা করে গেছেন। এখন বাকি সিদ্ধান্তটুকু কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাতে, “আমি সুস্থ অবস্থায় নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। নিজের পারফরম্যান্স এবং এত দিন যা কিছু করেছি, তা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। এখন যা-ই ঘটুক না কেন, আনচেলত্তি নিশ্চয়ই এই মহাযুদ্ধের জন্য সেরা ২৬ জন ফুটবলারকেই দলে ডাকবেন।”
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ৭৯ গোল করে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন নেইমার। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে পাওয়া সেই গুরুতর চোটের পর থেকে আর কখনো সেলেসাওদের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি তাঁর।