BN

মাঠে লিটন-রিজওয়ানের কথার লড়াই, উপভোগ করলেন টেইট

মাঠে লিটন-রিজওয়ানের কথার লড়াই, উপভোগ করলেন টেইট

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন মাঠে ব্যাট-বলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তো চলছিলই, তবে একপর্যায়ে

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন মাঠে ব্যাট-বলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তো চলছিলই, তবে একপর্যায়ে তা রূপ নেয় তুমুল কথার লড়াইয়ে। ড্রেসিংরুম কিংবা গ্যালারির গণ্ডি পেরিয়ে একদম মুখোমুখি হয়ে যান লিটন কুমার দাস ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজনের কথার বারুদে মাঠে বেশ উত্তাপ ছড়ায়, যা থামাতে শেষ পর্যন্ত আম্পায়ারদেরও হস্তক্ষেপ করতে হয়। মাঠের ভেতরের এমন গরম পরিস্থিতি বাইরে থেকে দেখে বেশ উপভোগ করেছেন বলেই জানালেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট।

ঘটনাটি চতুর্থ দিনের শেষ সেশনের। বাংলাদেশ দল তখন অধীর আগ্রহে দ্বিতীয় নতুন বলের অপেক্ষা করছিল এবং স্পিন দিয়ে দ্রুত ওভার শেষ করার চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে বড় জুটি গড়ে তোলা পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান সালমান আলী আগা ও রিজওয়ান বারবার চেষ্টা করছিলেন নানা অজুহাতে সময় নষ্ট করে নতুন বল আসার প্রক্রিয়াটা দীর্ঘায়িত করতে। বিশেষ করে রিজওয়ান বারবার এই কাজটি করছিলেন।

৭২তম ওভারে বোলার তাইজুল ইসলাম যখন বল করতে প্রস্তুত, ঠিক তখনই রিজওয়ান তাঁকে থামিয়ে দিয়ে সাইটস্ক্রিনের ওপরের দিকে কিছু একটা ইশারা করেন। স্টাম্প মাইকে তখন শোনা যায়, উইকেটকিপার লিটন হিন্দি ও উর্দুর মিশেলে রিজওয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, “কী হলো? কী করছেন?” রিজওয়ান ইশারায় ওপরের দিকে দেখিয়ে বলেন, “তাকিয়ে দেখ ওদিকে…।” লিটন তখন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আপনি প্রতি বলেই এমন করছেন, সব বলেই…।” রিজওয়ানের সোজাসাপটা জবাব, “এমন তো হতেই পারে!”

লিটন এবার বেশ কড়া সুরে বলেন, “ওদিকে তাকানোর আপনার কী দরকার? এখানে এসে ব্যাটিং করুন!” লিটনের এই কথায় রিজওয়ান বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং বলেন, “এটা কি তোর কাজ?” লিটনও দমে না গিয়ে পাল্টা জবাব দেন, “কী আমার কাজ! আপনি প্রতি বলেই ডিস্টার্ব করছেন।”

দুজনের এই কথার পিঠোপিঠি লড়াই চলে আরও কিছুক্ষণ। একপর্যায়ে রিজওয়ান আম্পায়ারের কাছে গিয়ে নালিশ জানান। আম্পায়ার তখন প্রথমে রিজওয়ানকে শান্ত করেন এবং পরে লিটনের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর খেলা আবারও শুরু হয়।

তবে রিজওয়ানের ওপর থেকে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের স্লেজিং কিন্তু থামেনি। বরং ওই ঘটনার পর স্লেজিংয়ের মাত্রা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। উইকেটের পেছন থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন ও মুশফিকুর রহিমরা বলতে থাকেন, “কিছু রান করেছে, এখন অভিনয় শুরু করে দেবে”, “অনেক বেশি অভিনয় চলছে রে ভাই, অনেক বেশি”, “এক সপ্তাহ পর বলিউডে ওর ট্রেনিং আছে”, “অতি অভিনয়ের জন্য পঞ্চাশ পয়সা কেটে রাখব আমরা”, “খুব ভালো অভিনয় করছে, সবাইকে শেখাচ্ছে।” যুগ যুগ ধরে প্রতিপক্ষের এমন স্লেজিংয়ের সামনে নুয়ে পড়া বাংলাদেশ দলের মুখে এবার যেন এক ভিন্ন দিনবদলের গান শোনা গেল।

মাঠে লিটন ও রিজওয়ানের এই কথোপকথনের আসল অর্থ বুঝতে না পারলেও, মাঠের এই উত্তাপ বেশ তাতিয়ে দিয়েছে বোলিং কোচ শন টেইটকে। তিনি নিজে একজন অস্ট্রেলিয়ান, আর অস্ট্রেলিয়ানরা যে স্লেজিং ও মাঠের আগ্রাসনে সবসময় এক ধাপ এগিয়ে থাকে, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন টেইট।

শন টেইট বলেন, “ওদের মধ্যে ঠিক কী বলাবলি হচ্ছিল, তা আমি জানি না। তবে আমি পুরো বিষয়টা দারুণ উপভোগ করেছি। মানে… আমি তো একজন অস্ট্রেলিয়ান, তাই না? এই এক লাইনেই হয়তো সবটা বোঝা যায়। আমরা এই ধরনের আগ্রাসন পছন্দ করি। আমার মনে হয়, টেস্ট ক্রিকেটে কিছুটা তর্কাতর্কি থাকা দরকার আছে। সবসময় অবশ্যই নয় এবং কোনোভাবেই সীমা অতিক্রম করা কাম্য নয়। আমরা ছেলেদের সবসময় সীমা না ছাড়ানোর ব্যাপারেই বলি, তবে মাঠে কিছুটা আগ্রাসন তো থাকতেই হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এটা একটা খাঁটি টেস্ট ম্যাচ, যেখানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ লড়াই করছে। আমার মনে হয় ভক্তদের জন্য এবং আমাদের সবার জন্যই খেলায় এমন আবেগ থাকা দরকার। সবাই লড়াইয়ের মধ্যে প্রতিপক্ষকে আউট করতে চায় এবং নিজেরা টিকে থাকতে চায়। আমার তো এসব দেখতে দারুণ লাগে।”

সর্বশেষ সংবাদ

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন মাঠে ব্যাট-বলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তো

কয়েক দিন ধরে হঠাৎ করেই ম্যানচেস্টার সিটি ঘিরে একটা

কোনো অনিশ্চয়তার অবকাশ ছিল না, তার পরও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার

ফুটবল

কয়েক দিন ধরে হঠাৎ করেই ম্যানচেস্টার সিটি ঘিরে একটা খবর

ফুটবল

কোনো অনিশ্চয়তার অবকাশ ছিল না, তার পরও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার একটা

ক্রিকেট

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য জাসপ্রিত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাদেজার

ক্রিকেট

শন টেইট নিজে একদমই টেনশনে ছিলেন না বলে দাবি করলেন।