কয়েক দিন ধরে হঠাৎ করেই ম্যানচেস্টার সিটি ঘিরে একটা খবর বেশ চাউর হয়েছে—ক্লাব ছেড়ে নাকি চলে যাচ্ছেন পেপ গুয়ার্দিওলা। অনেকটা আচমকা শুরু হওয়া এই গুঞ্জন দ্রুত সময়ে আরও জোরালো হচ্ছে। আর এই জোরালো গুঞ্জনের মাঝেই গুয়ার্দিওলার উত্তরসূরিও খুঁজে পেয়েছে বিবিসি! ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি লিখেছে, চেলসির সাবেক কোচ এঞ্জো মারেস্কাকে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টারের ক্লাবটি।
বিবিসি, ইএসপিএনসহ আরও কিছু গণমাধ্যমে সোমবার বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে লেখা হয়, আগামী রোববার প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচ দিয়েই সিটিকে বিদায় জানাবেন গুয়ার্দিওলা। চলতি মরসুমে সেটিই তাদের শেষ ম্যাচ।
চলতি মরসুমে অবশ্য আগেও কয়েকবার সিটির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ, ক্লাবটিকে সাফল্যের চূড়ায় তুলে আনা গুয়ার্দিওলার চলে যাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। তবে অল্প সময়ে সেসব গুঞ্জন থেমেও গেছে। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রীষ্মে গুয়ার্দিওলার বিদায় ধরে নিয়ে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে সিটি কর্তৃপক্ষ এবং তাদের কাছে প্রধান কোচের পদের জন্য মারেস্কাই সবচেয়ে যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন।
বিবিসির মঙ্গলবারের প্রতিবেদনটিতে বেশ জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মারেস্কার সঙ্গে আলোচনা অনেকখানি এগিয়ে নিয়েছে সিটি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি গুয়ার্দিওলার রেখে যাওয়া শূন্যতা পূরণ করবেন।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজের একমাত্র পূর্ণ মরসুমে চেলসিকে নতুন আঙ্গিকের ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপ এবং উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জেতান মারেস্কা। সিটিতেও কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে এই ইতালিয়ানের। ২০২২-২৩ মরসুমে সিটির ট্রেবল জয়ের অভিযানে গুয়ার্দিওলার সহকারী ছিলেন মারেস্কা। এর আগে সিটির একাডেমিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
২০২৩ সালে সিটি ছাড়ার পর সাবেক এই জুভেন্টাস মিডফিল্ডার লেস্টার সিটির দায়িত্ব নেন এবং তাঁর কোচিংয়েই প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসে লেস্টার। ক্লাবটিকে শীর্ষ লিগে ফেরানোর পরই চেলসির ডাগআউটের দায়িত্ব পান মারেস্কা।
৪৬ বছর বয়সী এই কোচের প্রশংসায় পূর্বে গুয়ার্দিওলা বলেছিলেন, “বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচদের একজন এঞ্জো মারেস্কা। তাঁর সম্পর্কে আমি খুব ভালো করে জানি, তবে চেলসিতে সে যা কিছু করেছে তা যথার্থ মূল্যায়ন পায়নি। তরুণ একটা দল নিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ, কনফারেন্স লিগ জেতা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নেওয়া খুবই কঠিন কাজ। সে অসাধারণ কাজ করেছে।”
তার পরও চেলসিতে শেষটা একদমই ভালো হয়নি মারেস্কার। দলের সাধারণ মানের পারফরম্যান্স এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে এই বছরের প্রথম দিনই চেলসির দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি।