BN

বাংলাদেশের কাছে হেরে আকমালের ক্ষোভ

বাংলাদেশের কাছে হেরে আকমালের ক্ষোভ

উত্তরসূরিদের তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানের সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান কামরান আকমাল সাফ জানিয়ে দিলেন,

উত্তরসূরিদের তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানের সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান কামরান আকমাল সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আগামী চার-পাঁচ বছরেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না।’

টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ও বাইরে টানা হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর পাকিস্তান দলের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কামরান আকমাল। ক্রিকেটারদের মানসিকতা থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

সিলেট টেস্টে বুধবার পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়েও শান্তর দল একই ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে এসেছিল। এই দুই সিরিজের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩টি টেস্ট খেলে বাংলাদেশের কোনো জয় ছিল না (১২টি হার, ১টি ড্র)। অথচ এখন দুই দলের সবশেষ চার টেস্টের চারটিতেই জয়ী বাংলাদেশ। অন্যদিকে দেশের বাইরে সবশেষ সাত টেস্টেরই সবকটিতে হারল পাকিস্তান।

সিলেটে পরাজয়ের পর ‘গেম প্ল্যান’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তান দলের কঠোর সমালোচনা করেন আকমাল। তবে উত্তরসূরিদের ধুয়ে দেওয়ার আগে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানাতে ভুলেননি তিনি:

“বাংলাদেশ দল ও সে দেশের পুরো জাতিকে অনেক অনেক অভিনন্দন। নিঃসন্দেহে অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে তারা। দেশে এত বিক্ষোভ, সরকারের পরিবর্তন—এসব কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও তারা তাদের খেলার মৌলিকত্ব থেকে কখনো সরে আসেনি। এটি সত্যিই অনেক বড় অর্জন।”

এরপর নিজেদের দলের দিকে তির ছুড়ে আকমাল বলেন:

“তীব্র হতাশা ছাড়া আমাদের আর কিছুই বাকি নেই। আমরা গত ছয়-সাত বছর ধরে একই কথা বলে আসছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই বদলায়নি।”

ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাদের একহাত নিয়ে আকমাল বলেন, তাদের অহংকারই দলকে দিন দিন আরও পিছিয়ে দিচ্ছে:

“যখন ক্রিকেটের বাইরের লোকেদের অহংকার জড়িয়ে থাকে, তখন ক্রিকেটের উন্নতি সম্ভব নয়। যখন নিয়মের বাইরে গিয়ে হুট করে খেলোয়াড় নির্বাচন করেন, তখন আপনার কাছে মেধা ও দক্ষতার কোনো মূল্য থাকে না। গোড়াতেই যদি গলদ থাকে, তবে কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না, পারফরম্যান্সের কোনো মানদণ্ড থাকবে না।”

ক্রিকেটারদের মানসিকতা এবং জাতীয় দলের দায়িত্বের চেয়ে পাকিস্তান সুপার লিগকে (পিএসএল) বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি:

“পিএসএলে খেলার সময় একজন খেলোয়াড়ও কখনো আনফিট থাকে না। অথচ ঘরের মাঠে যখন ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হয়, অমনি ফিটনেসের দোহাই দিয়ে চিঠি আসতে শুরু করে। পিএসএলের সময় তো একটা চিঠিও আসে না! খেলোয়াড়দের যখন এমন মানসিকতা, তখন ক্রিকেটের উন্নতি কীভাবে হবে?”

পাকিস্তানের হয়ে ৫৩ টেস্ট, ১৫৭ ওয়ানডে ও ৫৮ টি-টোয়েন্টি খেলা আকমালের মতে, বোর্ড ঘরোয়া ক্রিকেটারদের সাথে সঠিক আচরণ করছে না এবং ফিটনেসের অবাস্তব মানদণ্ড দাঁড় করিয়েছে:

“একজন খেলোয়াড় যে ১০০ বা ২০০ রান করতে পারে, দিনে ১৮ ওভার বল করতে পারে, আপনারা তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার স্রেফ শেষ করে দিচ্ছেন কারণ সে একটা নির্দিষ্ট লাফ দিতে পারেনি! দুই কিলোমিটার দৌড়ানোর সময় যদি সে আধা মিনিট বেশি নেয়, আপনারা বলেন সে খেলার জন্য ফিট নয়। যারা ক্রিকেটের এসব আজব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তারা আগে নিজেদের দিকে তাকান।”

ফিটনেসের ব্যাপারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের উদাহরণ টেনে ৪৪ বছর বয়সী আকমাল বলেন:

“ভারতে চেতেশ্বর পুজারাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, আজিঙ্কা রাহানেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, শিখর ধাওয়ানের মতো বড় পারফর্মারকেও সরানো হয়েছিল। কারণ সেখানে ক্রিকেট আগে, দল আগে। আর আমাদের এখানে তারা বন্ধুত্বকে মাঠের ভেতর নিয়ে আসে।”

খুব শিগগিরই পাকিস্তানের ক্রিকেটে কোনো আলো দেখছেন না আকমাল। দলের উন্নতির জন্য তাই বোর্ডকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি:

“বাস্তবিক অর্থে আগামী চার-পাঁচ বছরেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি আমি দেখছি না। যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলতে থাকবে। যদি সত্যিই ভালো কিছু করতে চান, তাহলে বড় ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে কোনো কিছুরই পরিবর্তন হবে না।”

সর্বশেষ সংবাদ

সবশেষ মার্চ মাসের প্রীতি ম্যাচেও মাঠে নেমেছিলেন মোস্তফা মোহামেদ।

২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ব্রাজিল দলে ডাক পেয়েই নতুন

উত্তরসূরিদের তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানের সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান কামরান আকমাল

ফুটবল

সবশেষ মার্চ মাসের প্রীতি ম্যাচেও মাঠে নেমেছিলেন মোস্তফা মোহামেদ। কিন্তু

ফুটবল

২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ব্রাজিল দলে ডাক পেয়েই নতুন করে

ফুটবল

২০৩০ বিশ্বকাপের ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে এক মস্ত বড় পরিবর্তনের ডাক

ক্রিকেট

পাকিস্তানের বিপক্ষে গতকাল সিলেটে এক ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের রূপকথা