রান তাড়ায় উড়ন্ত শুরু আর পাভান রাত্নায়েকের সেঞ্চুরির পরও বড় ব্যবধানে হার মানতে হলো শ্রীলঙ্কাকে। এতে প্রায় তিন বছর পর দেশের বাইরে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড।
আগের ম্যাচে মন্থর ব্যাটিংয়ের পর হ্যারি ব্রুক বলেছিলেন, সেটিই সম্ভবত তাঁর খেলা সবচেয়ে বাজে উইকেট। তবে তৃতীয় ওয়ানডেতে উইকেট বদলানোর সঙ্গে বদলে গেল ব্রুকের ব্যাটিংও। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলেন তিনি। অন্য প্রান্তে ব্যাটিংয়ের নিখুঁত মাস্টারক্লাস উপহার দেন জো রুট। দুজনের ব্যাটে গড়া রানের পাহাড়ের জবাবে ভালো শুরু পেয়েও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।
রানবন্যার এই ম্যাচে ইংল্যান্ড জেতে ৫৩ রানে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারলেও পরের দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় ইংলিশরা। ২০২৩ সালের মার্চের পর এই প্রথম দেশের বাইরে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দ পেল তারা।
মঙ্গলবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৫৭ রান তোলে ইংল্যান্ড। ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ১৯৮৩ সালে টন্টনে করা ৩৩৩ রান।
জবাবে প্রথম ৯ ওভারে ২ উইকেটে ৯৪ রান তুলে দারুণ শুরু করে শ্রীলঙ্কা। তবে এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। শেষ পর্যন্ত ৪৬.৪ ওভারে ৩০৪ রানে থেমে যায় স্বাগতিকরা। দুই দল মিলিয়ে ম্যাচে মোট রান হয়েছে ৬৬১, যা ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ওয়ানডে ম্যাচে সর্বোচ্চ।
সিরিজের সব ম্যাচই হয়েছে আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। শেষ ম্যাচটি খেলা হয় প্রথম ম্যাচে ব্যবহৃত উইকেটে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭৫ বলে ৪২ রান করা ব্রুক সেই উইকেট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তবে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে তৃতীয় ম্যাচে যেন সব আক্ষেপ মিটিয়ে দিলেন তিনি।
মাত্র ৬৬ বলে অপরাজিত ১৩৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ব্রুক, স্ট্রাইক রেট ছিল দুইশরও বেশি। ১১ চার ও ৯ ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে তিনিই হন ম্যাচসেরা। একপর্যায়ে তাঁর রান ছিল ৩৯ বলে ৪৬। পরের ২৭ বলেই করেন ৯০ রান, যার মধ্যে শেষ ১৪ বলে আসে ৫১ রান।
অন্যদিকে, প্রথম দুই ম্যাচে ৬১ ও ৭৫ রানের পর এবার অপরাজিত ১১১ রান করেন জো রুট। ১০৮ বলের ইনিংসে ৯ চার ও ১ ছক্কা মারেন তিনি। তিন ম্যাচে মোট ২৪৭ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কারও জেতেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
রুট ও ব্রুক চতুর্থ উইকেটে ১১৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৯১ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যে ব্রুকের অবদানই ছিল ১৩৬ রান। শ্রীলঙ্কার মাটিতে যেকোনো উইকেটে এটি ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ জুটি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কার ঝড়ো ফিফটি (২৫ বলে ৫০) ও পাভান রাত্নায়েকের সেঞ্চুরি ছাড়া আর কেউ তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আগে সাত নম্বরে ব্যাটিং করা রাত্নায়েককে এবার চার নম্বরে নামানো হয়। প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিতে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১১৫ বলে অপরাজিত ১২১ রান করেন ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।
রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কার শুরুটা ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। প্রথম পাঁচ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৮ রান তোলে তারা। তবে উইল জ্যাকস কামিল মিশারাকে ফিরিয়ে দিলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এরপর দ্রুত ফিরেন কুসাল মেন্ডিস ও নিসাঙ্কা। একপর্যায়ে ১ উইকেটে ৮৫ থেকে স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৩১।
রাত্নায়েকে একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালালেও অন্য প্রান্তে কেউ টেকেননি। শেষ পর্যন্ত শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয় শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন জেমি ওভারটন, উইল জ্যাকস, লিয়াম ডসন ও আদিল রাশিদ।
ইংল্যান্ডের শুরুটা অবশ্য ছিল বেশ ধীর। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম পাঁচ ওভারে মাত্র ১৭ রান তোলে তারা। তবে রুট ও পরে ব্রুকের তাণ্ডবে শেষ আট ওভারে যোগ হয় ১২৪ রান, যার ৯৮ রানই আসে ব্রুকের ব্যাটে।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। আগামী শুক্রবার থেকে পাল্লেকেলেতে শুরু হবে সেই লড়াই।