শেরে বাংলার হ্যালোজেন লাইটের ঝলকানিতে ওয়ারফেজের শিহরণ জাগানো পুর্নতা পেরিয়ে মুস্তাফিজুর, শরিফুলদের কাটার সুইং সামলাতে দেখা যাবে একেবারেই তরুণ তামিম, জাওয়াদদের। প্রমাণ করতে পারলে ফিজ, নাহিদদের ছাপিয়ে ফাহাদ, ইমনের রিভার্সে চমকে দেবার ঘটনায় সবার নড়েচড়ে বসার মোক্ষম টুর্নামেন্ট তো বটেই।
আজিজুল হাকিম তামিম, জাওয়াদ আবরার কিংবা আল ফাহাদদের জন্য এই টুর্নামেন্ট অনেকটা স্বপ্নের মতো। গত কয়েক বছর ধরে সংগ্রাম করা আরিফুলদের জন্য এই টুর্নামেন্ট অনেকটা বড় করে নিজেদের ফোকাসে আনবার মঞ্চ। জিসান আলম, সোহানদের অনেক ভুল শুধরে জাত চেনানোর বড় সুযোগও এটা। দলগত পারফরম্যান্স ছাপিয়ে এই টুর্নামেন্ট ব্যক্তিগত মাইলফলকের পৃষ্ঠাতেই তাকিয়ে থাকবে।
বিপিএল ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্ত আলাদা করে বলেছিলেন সাকলাইনের কথা। সাকলাইনের মতো এমন ক্রিকেটারদের জন্য এই টুর্নামেন্ট দারুণ কিছু। কেউ কেউ নজড় কাঁড়তে সক্ষম হবেন। কেউ কেউ উত্তর খুঁজবেন।
বিশ্বকাপে যেতে না পারা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য এই টুর্নামেন্ট অনেকটা রিকভারি সেশনের মতো, দলটা দীর্ঘ দুই বছরের কষ্টার্জিত বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে পানিতে ভেস্তে যেতে দেখেছে। কোচ সালাউদ্দিনও লুকাননি লিটনদের হতাশার কথা। ক্রিকেটাররা নিশ্চয়ই এই টুর্নামেন্ট দিয়ে নতুন করে শক্তি ফিরে পাবেন।
দলীয় পারফরম্যান্সে একেবারে যে কিছুই উত্তাপ থাকবে না সেটা ভাবা ভুল হবে। জাতীয় দলের মতোই দল ধুমকেতু, সে দলকে যদি হারিয়ে দিতে পারে ছোটরা তবে টুর্নামেন্ট জমে উঠতে দেরি কই! তামিম,জাওয়াদদের জন্য বড় সুযোগ তো বটেই। আকবর, দ্য ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক নামটা প্রতিষ্ঠা করবারও আরেকটা সুযোগ।
শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি টিকিট থাকছে, দেশের জাতীয় নির্বাচনের উত্তেজনায় এই টুর্নামেন্ট দর্শকদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটা সময় বলে দেবে। তবে এতোটুকু নিশ্চিত, যারা মাঠে আসবেন তারা ক্রিকেটকে ভালোবাসেন, একটু হলেও।
এমন একটা টুর্নামেন্ট, হারানোর নেই কিছুই, অর্জনের আছে বহু কিছু
- ওয়াহেদ মুরাদ, মিডফিল্ড