দক্ষিণ আফ্রিকার হার ব্যবধান কিছুটা কমাতে ব্যাট হাতে ঝলক দেখান স্টাবস, রিকেলটন, স্মিথ ও ইয়ানসেন।
নাভি মুম্বাইয়ের ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩০ রানে হারিয়ে পুরুষদের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে নিজেদের বিধ্বংসী ব্যাটিং শক্তির ঝলক দেখাল ভারত। ম্যাচের শেষ দিকে শিবম দুবের এক ওভারে ২২ ও আরেক ওভারে ২০ রান ওঠায় কেবল হারের ব্যবধানটাই কিছুটা কমাতে পেরেছে প্রোটিয়ারা।
ডব্লিউপিএল ২০২৬-এর প্রথম পর্বে যেখানে এই মাঠে বেশিরভাগ দল রান তাড়া করতে পছন্দ করেছিল, সেখানে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন ইশান কিশান। মাত্র ২০ বলে ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আনরিখ নর্টজের বিপক্ষে টানা ৬, ৬, ৪, ৬ হাঁকিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করেন কিশান। পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৮৩/১, এরপরই রিটায়ার্ড আউট হন কিশান।
এরপর শুরু থেকেই সাবলীল ছিলেন তিলক ভার্মা। একই ভেন্যুতে কয়েক রাত আগে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলার পর এই ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের ঠিক আগে মূল দলে যোগ দেওয়া তিলক ১৯ বলে ৪৫ রান করে নিজের ছন্দের জানান দেন।
পরে সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পান্ডিয়া পুরোপুরি হাত খুলে খেলেন। তাদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে ভারত বিশাল ২৪০/৫ রান তোলে। দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা নর্টজে এই ম্যাচে তিন ওভারে ৫৭ রান দেন। গত সপ্তাহে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তন ম্যাচেও তার বোলিং ফিগার ছিল ৩–০–৫৯–০। কাগিসো রাবাদাও ব্যয়বহুল ছিলেন, তিন ওভারে দেন ৪৪ রান।
লক্ষ্য তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে পাওয়ারপ্লেতে ঝলক দেখান এইডেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটন। মাত্র পাঁচ ওভারে দুজন মিলে ৬৫ রান যোগ করেন। ১৯ বলে চারটি ছক্কায় ৩৮ রান করেন মার্করাম, আর তিন নম্বরে নেমে ২১ বলে ৪৪ রান করেন রিকেলটন। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় একাদশ ওভারেই দলের অর্ধেক ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।
শেষ দিকে জেসন স্মিথ, ট্রিস্টান স্টাবস ও মার্কো ইয়ানসেন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অভিষেক শর্মা ও পরে দুবেকে চাপের মুখে ফেললেও বিশাল লক্ষ্য তখন নাগালের বাইরে ছিল।
স্কোরকার্ড
- ভারত: ২৪০/৫ (ইশান কিশান ৫৩, তিলক ভার্মা ৪৫, ইয়ানসেন ১–১৮)
- দক্ষিণ আফ্রিকা: ২১০/৭ (স্টাবস ৪৫*, রিকেলটন ৪৪, মার্করাম ৩৮, অভিষেক ২–৩২)
- ভারত জিতেছে ৩০ রানে।