গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে এসে নেট রান রেটের জটিল হিসাব মেলাতে বসা পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় তাদের জন্য এটি নিয়মরক্ষার ম্যাচ। তবে ইংল্যান্ডের কাছে নিউজিল্যান্ডের আকস্মিক হারে পাকিস্তানের সামনে সেমিফাইনালের এক ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের রান রেট (১.৩৯০) পাকিস্তানের (-০.৪৬১) তুলনায় অনেক এগিয়ে। তাই সালমান আঘার দলকে যদি শেষ চারে যেতে হয় তবে পাল্লেকেলেতে শনিবার শ্রীলঙ্কাকে হারাতে হবে অন্তত ৬৪ রানে অথবা যেকোনো লক্ষ্য তাড়া করতে হবে মাত্র ১৩.১ ওভারের মধ্যে।
এই সমীকরণ মেলাতে হলে বাবর আজমদের চিরচেনা রক্ষণাত্মক ব্যাটিং ভঙ্গি পুরোপুরি বদলে ফেলতে হবে। সত্যি বলতে সাধারণ টি-টোয়েন্টি পরিস্থিতিতেই যখন বাবরের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তখন এমন মারকাটারি সমীকরণে তাকে খেলানো কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে কেবল বাবর নন অধিনায়ক সালমান আঘাও এই টুর্নামেন্টে স্ট্রাইক রেট নিয়ে ভুগছেন।
পাকিস্তান এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে এমন বড় ব্যবধানে জয়ের কোনো নজির দেখাতে পারেনি। পরিসংখ্যান বলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে ব্যাটিং করে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে পাকিস্তান কখনো এত বড় ব্যবধানে জেতেনি। আর রান তাড়া করে এমন জয় এসেছিল মাত্র একবার ২০০৯ সালে। শ্রীলঙ্কার মন্থর পিচে এই কাজটা আরও কঠিন। বিশেষ করে যখন দলে বড় শট খেলার মতো হার্ডহিটারের অভাব স্পষ্ট এবং সাইম আইয়ুব ফর্মে নেই। তবুও খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই তো পাকিস্তানের সহজাত বৈশিষ্ট্য।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার হারানোর কিছু নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ের পর তাদের টুর্নামেন্ট কেবল নিচের দিকেই নেমেছে। সুপার এইটে তারাই সবার আগে বিদায় নিয়েছে। পাকিস্তানের সেমিফাইনাল সমীকরণ নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। তারা চাইবে কেবল জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে।
নজরে থাকবেন যারা
দুনিথ ওয়েল্লালাগে ও সালমান আঘা
শ্রীলঙ্কার অনেক ক্রিকেটার হয়তো এই বিশ্বকাপের পর দলের অনিয়মিত হয়ে পড়বেন কিন্তু দুনিথ ওয়েল্লালাগে নিজেকে ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে প্রমাণ করেছেন। এই ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার এখন পর্যন্ত তার লড়াকু মানসিকতা দিয়ে নজর কেড়েছেন। পাকিস্তানের টপ অর্ডারে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের আধিক্য থাকায় তাকে শুরুতেই বোলিংয়ে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে অধিনায়ক সালমান আঘার জন্য এটি ভাগ্য নির্ধারণের ম্যাচ। ৫ ইনিংসে তার রান মাত্র ৬০ যার ৩৮ রানই এসেছে নামিবিয়ার বিপক্ষে। বোলিং এবং নেতৃত্ব দুই বিভাগেই তিনি এখন পর্যন্ত খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। পাকিস্তান যদি আজ বিদায় নেয় তবে তার অধিনায়কত্ব এমনকি দলে টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে।
দলীয় সংবাদ
শ্রীলঙ্কা: কুশল মেন্ডিস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে হয়তো খেলবেন না। তার বদলে কামিল মিশারা উইকেটরক্ষক হিসেবে ফিরতে পারেন। বাকি একাদশে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
পাকিস্তান: শাহীন আফ্রিদি তার জায়গা ধরে রাখছেন এটা নিশ্চিত। নাসিম শাহ নাকি সালমান মির্জা খেলবেন তা নির্ভর করছে কন্ডিশনের ওপর। তবে সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলাতে ব্যাটিং অর্ডারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বাবর আজমকে বসিয়ে খাজা নাফেকে খেলানোর সাহস তারা দেখাবে কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়।