বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আজ যা হলো, তাকে অনায়াসেই ক্রিকেটের এক মহাকাব্যিক নাটক বলা যায়। বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেও যে বীরত্ব দেখালেন হাসান মাহমুদ, তাতে তিনি এখন স্রেফ বোলার নন, বরং পূর্ণাঙ্গ এক অলরাউন্ডারের প্রতিচ্ছবি। তাঁর এই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের কাছে ম্লান হয়ে গেল সৌম্য সরকারের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং স্পেল।
শেষ জুটির রূপকথা
রান তাড়ায় নেমে এক পর্যায়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল পূর্বাঞ্চল। ১৪১ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয় যখন সময়ের ব্যাপার, ঠিক তখনই শুরু হয় হাসান মাহমুদ ও ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মুশফিক হাসানের এক অসম লড়াই। রবিউল হকের বলে হাসানের সেই নিখুঁত স্ট্রেট ড্রাইভ আর কাভার ড্রাইভ দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি কোনো স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নন। শেষ পর্যন্ত ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ১ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় উপহার দেন হাসান। মুশফিক মাত্র ৪ রান করলেও ৩৫টি বল খেলে হাসানকে যে সঙ্গ দিয়েছেন, তা ছিল অমূল্য।
সৌম্যর বিফল লড়াই
ব্যাট হাতে টানা ব্যর্থ সৌম্য সরকার আজ বল হাতে জ্বলে উঠেছিলেন। ৩২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি দক্ষিণাঞ্চলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু হাসান-মুশফিকের সেই অদম্য দেয়াল তিনি ভাঙতে পারেননি। ফলে নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং দিয়েও দলকে ফাইনালে তুলতে পারলেন না এই অলরাউন্ডার। এই হারে দুই দলই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র
- দক্ষিণাঞ্চল: টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮০ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ওপেনার আনিসুল ইমনের ৫০ রান আর শেষ দিকে বোলার শহিদুলের ২৮ রানের লড়াকু ইনিংসই ছিল মূল পুঁজি। হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান ৩টি করে উইকেট নেন।
- পূর্বাঞ্চল: ১৮১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে সৌম্যর বোলিং তোপে একের পর এক উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে তারা। শাহাদাত (৪২) ও মুমিনুলের (২৯) পর হাল ধরার মতো কেউ ছিল না। কিন্তু শেষ উইকেটে হাসান মাহমুদের ৩৫* রানের জাদুকরী ইনিংসে শেষ হাসি হাসে পূর্বাঞ্চলই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- দক্ষিণাঞ্চল: ১৮০ (৪৩.২ ওভার)
- পূর্বাঞ্চল: ১৮১/৯ (৪৭.৩ ওভার)
ফল: পূর্বাঞ্চল ১ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ।