নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ড একটা সুযোগ করে দিয়েছিল পাকিস্তানের সামনে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নাটকীয় জয় পেলেও সেমিফাইনালের সমীকরণে টিকতে পারেনি তারা। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর অধিনায়ক সালমান আলি আগা অকপটে স্বীকার করে নিলেন—ব্যর্থতার দায় তাদেরই। কোচও এই দায় নিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
সুপার এইটে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর পাকিস্তান তাকিয়ে ছিল অন্যের ফলের দিকে। ইংলিশরা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তাদের জন্য সেমির পথ কিছুটা সহজ করে দিয়েছিল। কিন্তু পাল্লেকেলেতে শনিবার সাহিবজাদা ফারহানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি (৬০ বলে ১০০) আর ফখর জামানের বিধ্বংসী ৮৪ রানের ওপর ভর করে ২১২ রান তুলেও লাভ হয়নি। সেমিতে যেতে হলে লঙ্কানদের আটকাতে হতো ১৪৭ রানে। উল্টো ম্যাচটাই প্রায় হারতে বসেছিল পাকিস্তান। দাসুন শানাকার ঝোড়ো ব্যাটিং সামলে শেষ পর্যন্ত ৫ রানে জিতলেও রান রেটের হিসেবে ছিটকে যেতে হয় বাবরদের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সালমান বেশ পরিষ্কার করেই বললেন দলের ব্যর্থতার কথা:
“পুরো টুর্নামেন্টের দিকে তাকালে বলতেই হবে, আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। আমাদের মিডল অর্ডার একদমই পারফর্ম করতে পারেনি। রানের জন্য আমরা অতিরিক্ত সাহিবজাদার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম।”
রেকর্ড বলছে, সাহিবজাদা একাই করেছেন ৩৮৩ রান—যা এক বিশ্বকাপে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ। কিন্তু দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শাদাব খান (১১৮ রান), যার অবস্থান তালিকার ৪৩ নম্বরে! ব্যাটিংয়ের এই দৈন্যদশা মেনে নিয়ে সালমান বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা মিডল অর্ডারের এই সমস্যা নিয়ে তাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে।
ব্যর্থতার তির রয়েছে অধিনায়কের দিকেও। ৩ নম্বরে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে ৬ ইনিংসে তিনি করেছেন মাত্র ৬০ রান। নিজের এই অফ-ফর্ম নিয়ে সালমানের সরল স্বীকারোক্তি, “বিশ্বকাপে আমি নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারিনি। সাহিবজাদা ছাড়া আমাদের পুরো ব্যাটিং ইউনিটই ব্যর্থ।”
দলের একাদশ নির্বাচন এবং ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও কম সমালোচনা হয়নি। ফখর জামানকে কেন মিডল অর্ডারে খেলানো হলো কিংবা আবরার আহমেদকে কেন বসিয়ে রাখা হলো—এমন সব প্রশ্নের মুখে সালমান জানান, সিদ্ধান্তগুলো কোচ আর তিনি মিলেই নিয়েছেন। তাই দায়টাও তাদেরই।
অধিনায়কের ভাষায়:
“আমরা দায় নিচ্ছি। কন্ডিশন বুঝে আমি আর কোচ মিলেই একাদশ সাজিয়েছিলাম। চাপের মুখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আরও বাড়াতে হবে। আইসিসি ইভেন্টে বড় দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই, এখানে ভুলের কোনো জায়গা নেই।”
বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেও এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে তাকাতে চায় পাকিস্তান।