সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অধরা সেই শিরোপার খোঁজে আবারও মুখোমুখি ক্রিকেটের দুই ‘সেরা সেমিফাইনালিস্ট’ দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুই দলের লক্ষ্য একটাই—যেকোনো মূল্যে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা। ২০০০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত আইসিসি’র কোনো সাদা বলের ট্রফি ঘরে তোলা হয়নি এই দুই দলের কারোই।
প্রোটিয়াদের দাপট বনাম কিউইদের ধারাবাহিকতা
দক্ষিণ আফ্রিকা এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়া প্রোটিয়ারা ভারতের কন্ডিশনে নিজেদের পেস শক্তিকে দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছে। অন্যদিকে, গত দুই দশকে নিউজিল্যান্ড যেকোনো দলের চেয়ে বেশি ধারাবাহিকভাবে সেমিফাইনালে উঠেছে। তবে শেষ ধাপটি পার হয়ে শিরোপা জেতার স্বাদ এখনও তাদের অজানা।
শক্তিমত্তার লড়াই
- দক্ষিণ আফ্রিকা: অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে ২৬৮ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা ওপেনার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সাথে মিলার, ব্রেভিস আর স্টাবসদের নিয়ে গড়া মিডল অর্ডার যেকোনো দলের জন্য ভয়ের কারণ। বোলিংয়ে কাগিসো রাবাদা আর লুঙ্গি এনগিডিরা গতির ঝড় তুলছেন।
- নিউজিল্যান্ড: কিউইদের শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে এক সময় বিদায়ের শঙ্কায় ছিল তারা। তবে ফিন অ্যালেন আর টিম সাইফার্টের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর অলরাউন্ডারদের আধিক্য তাদের শক্তি জোগাচ্ছে।
নজরে থাকবেন যারা
- রাচিন রবীন্দ্র: গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ইডেনের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে কিউইদের বড় ভরসা রবীন্দ্র।
- এইডেন মার্করাম: এই বিশ্বকাপে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষে থাকা মার্করাম গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন। বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাকে অনন্য করে রেখেছে।
ইডেনের উইকেট ও কন্ডিশন
ইডেন গার্ডেন্সের উইকেট কিছুটা গাঢ় রঙের, যার মানে এখানে স্পিনাররা কিছুটা সহায়তা পেতে পারেন। তবে সন্ধ্যার দিকে শিশির পড়ার সম্ভাবনা থাকায় টস জয়ী দল রান তাড়া করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কলকাতায় বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই একটি রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পূর্ণ আমেজই পাওয়া যাবে।