গল্পটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। এক দল টুর্নামেন্টের আগের সাত ম্যাচের সবকটিতে জিতে রীতিমতো উড়ছিল, আর অন্য দল গতবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু সেমি-ফাইনালের মঞ্চে সব হিসাব পাল্টে দিল নিউজিল্যান্ড। অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল কিউইরা।
অ্যালেনের রেকর্ডবুক ওলটপালট করা সেঞ্চুরি
ম্যাচটা নিউজিল্যান্ড জিতবে সেটা অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, বাকি ছিল শুধু ফিন অ্যালেনের সেঞ্চুরি। জয়ের জন্য যখন ১ রান বাকি, অ্যালেন তখন ৯৬ রানে দাঁড়িয়ে। মার্কো ইয়ানসেনের বল গ্যালারিতে পাঠাতে চাইলেন না, মিড-অফের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে পৌঁছে গেলেন কাঙ্ক্ষিত শতকে। মাত্র ৩৩ বলে করা এই সেঞ্চুরিটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম। তার ১০৩ রানের টর্নেডো ইনিংসে ছিল ৮টি ছক্কা ও ১০টি চার।
তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া প্রোটিয়া ব্যাটিং
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখলেও কোল ম্যাককনকি আর রাচিন রবীন্দ্রর স্পিন বিষে নীল হয় তারা। ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা প্রোটিয়াদের টেনে তোলেন ট্রিস্টান স্টাবস ও মার্কো ইয়ানসেন। ইয়ানসেনের লড়াকু ফিফটিতে (৩০ বলে ৫৫*) শেষ পর্যন্ত ১৬৯ রান তুলতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব শুরু করেন দুই কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্ট। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারেই তারা স্কোরবোর্ডে তোলেন বিনা উইকেটে ৮৪ রান, যা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি রেকর্ড। সাইফার্ট ৫৮ রান করে বিদায় নিলেও অ্যালেন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ১২.৫ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬৯/৮ (২০ ওভার); ইয়ানসেন ৫৫*, ব্রেভিস ৩৪; ম্যাককনকি ২/৯, হেনরি ২/৩৪।
- নিউজিল্যান্ড: ১৭৩/১ (১২.৫ ওভার); অ্যালেন ১০৩*, সাইফার্ট ৫৮; রাবাদা ১/২৮।
ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: ফিন অ্যালেন।