টানা সাত ম্যাচ জিতে সেমি-ফাইনালে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা এভাবে কিউইদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করবে, তা হয়তো খোদ মার্করামও ভাবেননি। ৯ উইকেটের এই বড় হারকে মার্করাম তুলনা করেছেন ‘গালে চড় খাওয়ার’ মতো এক যন্ত্রণার সাথে।
পিচ নিয়ে ভুল অনুমান?
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সের উইকেট দেখে মার্করাম ভেবেছিলেন এটি ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ হবে। তার ভাষায়, “চোখে দেখে মনে হয়েছিল উইকেট খুব ভালো খেলবে।” কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো। শুরুতেই কিউই বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বল ব্যাটে ঠিকমতো আসছিল না। মার্করামের মতে, শুরুতে একটু ‘ওল্ড স্কুল’ বা প্রথাগত ব্যাটিং করে যদি স্কোরটা ১৯০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যেত, তবে হয়তো লড়াই করার মতো পুঁজি পাওয়া যেত।
ব্যাটিং বিপর্যয় ও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
পাওয়ার প্লে-তে ৪৮ রানে ২ উইকেট খুব একটা খারাপ ছিল না। কিন্তু মাঝপথে রবীন্দ্রর ঘূর্ণিতে মার্করাম ও মিলার দ্রুত বিদায় নিলে ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে প্রোটিয়ারা।
- ত্রাতা ইয়ানসেন: শেষ দিকে মার্কো ইয়ানসেনের ২৭ বলে ৫৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছিল।
- ভুল হিসাব: এই পুঁজিতেও মার্করাম জয়ের আশা দেখেছিলেন। কিন্তু ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্টের উদ্বোধনী জুটি প্রথম ৪৭ বলেই ১০০ রান তুলে প্রোটিয়াদের সব আশা শেষ করে দেয়।
অ্যালেন-সাইফার্টের তাণ্ডব
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং নিয়ে মার্করামের সরল স্বীকারোক্তি, “ওদের পাওয়ার প্লে আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে যখন কেউ এভাবে শুরু করে, তখন সব বাউন্ডারি রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।” অ্যালেনের ৩৩ বলে করা সেঞ্চুরিটিই মূলত ম্যাচটিকে একতরফা বানিয়ে দিয়েছিল।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেও একটি মাত্র বাজে রাত সব স্বপ্ন শেষ করে দিল। মার্করাম জানিয়েছেন, এই মুহূর্তের আবেগগুলো একটু শান্ত হলে তারা পুরো ম্যাচটি নিয়ে বিশ্লেষণ করবেন। হারের ক্ষত নিয়ে আপাতত মাঠ ছাড়লেও, ভুলগুলো শুধরে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রতিজ্ঞা ঝরল তার কণ্ঠে।