নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শককে চুপ করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ফাইনালে নামছে নিউজিল্যান্ড। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার সব চাপ থাকবে ভারতের ওপরই। আর সেই সুযোগে ভারতীয়দের হৃদয় ভেঙে ট্রফি জিততে বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই তার।
রোববারের হাইভোল্টেজ ফাইনালে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে ভারত। তবে নিউজিল্যান্ড নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ ভাবতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। স্যান্টনারের মতে, মাঠের ১১ জন ভারতীয় ক্রিকেটারের পাশাপাশি গ্যালারির বিশাল দর্শক বাহিনীও তাদের বড় প্রতিপক্ষ। কিন্তু এই চাপকে জয় করেই ইতিহাস গড়তে চায় কিউইরা।
স্যান্টনারের হুংকার ও প্যাট কামিন্সের স্মৃতি
গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ঠিক একইভাবে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছিলেন, তিনি গ্যালারি স্তব্ধ করে দিতে চান। মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি সেটা করেও দেখিয়েছিলেন। স্যান্টনারের কণ্ঠেও আজ সেই একই সুর। ৩৪ বছর বয়সী এই স্পিনিং অলরাউন্ডার বলেন:
“আমাদের লক্ষ্যই হলো দর্শকদের চুপ করিয়ে দেওয়া। সবাই জানে আমরা ফেভারিট নই, তবে তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা যদি আমাদের ছোট ছোট কাজগুলো ঠিকঠাক করতে পারি, তবে ট্রফি জেতার ভালো সুযোগ আছে। আর ট্রফি উঁচিয়ে ধরার জন্য যদি কিছু হৃদয় ভাঙতে হয়, তবে আমার তাতে কোনো আক্ষেপ নেই।”
পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থা
- ধারাবাহিক কিউইরা: গত ১১ বছরে সাদা বলের ক্রিকেটে চারটি আইসিসি ফাইনাল খেললেও শিরোপা অধরা রয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডের। তবে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে তারা এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে।
- ভারতের ইতিহাস: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের রেকর্ড মোটেও ভালো নয়। এখন পর্যন্ত ৩ বারের দেখায় একবারও কিউইদের হারাতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া।
- চাপের মুখে স্বাগতিকরা: টুর্নামেন্টে ভারত মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে, আর সেই হারটি ছিল এই আহমেদাবাদেই। ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার প্রবল চাপ এখন রোহিত-বিরাটদের কাঁধেই।
রোববারের ফাইনাল কি গত বছরের সেই দুঃসহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে, নাকি ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়বে ভারত? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।