২৫৪ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে যা কেউ কখনও দেখেনি, রোববার নিউজিল্যান্ডের মাঠে ঠিক সেই অবিশ্বাস্য কাণ্ডই ঘটিয়ে দেখালেন ৩০ বছর বয়সী পেসার ব্রেট র্যান্ডেল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলায় টানা ৫ বলে ৫ উইকেট নেওয়ার কোনো নজির এর আগে ছিল না। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের এই পেসার যেন জাদুর কাঠি হাতে নেমেছিলেন, যার তোপে পড়ে একে একে ৫ জন ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন মাত্র ৫টি বলের ব্যবধানে।
যেভাবে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ
ম্যাচটি ছিল প্লাঙ্কেট শিল্ডের, প্রতিপক্ষ নর্দান ডিস্ট্রিক্টস। নিজের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে হেনরি কুপারকে বোল্ড করে শুরু করেন র্যান্ডেল। এরপর নিজের পরের ওভারের প্রথম দুই বলে জিত রাভাল ও জো কার্টারকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি; পরের দুই বলে রবার্ট ও’ডনেল এবং ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ককেও আউট করে ক্রিকেট বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেন। ক্রিকেটের ভাষায় ৪ বলে ৪ উইকেটকে ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ বলা হলেও, টানা ৫ উইকেটের এই কীর্তিকে এখন সবাই ‘ট্রিপল হ্যাটট্রিক’ হিসেবেই দেখছেন।
৮ বলে ৬ উইকেটের অনন্য রেকর্ড
৫ বলে ৫ উইকেট নেওয়ার পর নিজের পরের ওভারের প্রথম বলে আরও একটি উইকেট শিকার করেন র্যান্ডেল। সব মিলিয়ে মাত্র ৮ বলের মধ্যে ৬ উইকেট নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য নজির গড়েন তিনি, যা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এর আগে আর কেউ করতে পারেনি। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে এক পর্যায়ে নর্দান ডিস্ট্রিক্টসের স্কোর বিনা উইকেটে ৪ রান থেকে মুহূর্তেই ৫ উইকেটে ৯ রানে দাঁড়িয়ে যায়।
র্যান্ডেলের জাদুর স্পেল একনজরে
- কীর্তি: টানা ৫ বলে ৫ উইকেট এবং ৮ বলে ৬ উইকেট।
- ইতিহাস: ১৭৭২ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই প্রথম এমন ঘটনা।
- ম্যাচ পরিসংখ্যান: ২৫ রানে ৭ উইকেট (ক্যারিয়ার সেরা বোলিং)।
- আগের রেকর্ড: প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪ বলে ৪ উইকেট নেওয়ার ঘটনা ছিল ৪৪টি। বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০১৪ সালে এমন একটি কীর্তি গড়েছিলেন।
ম্যাচ শেষে ঘোরের মধ্যে থাকা র্যান্ডেল জানান, তার কোনো ধারণাই ছিল না যে তিনি বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। চোট আর ব্যক্তিগত কারণে দলের চারজন নিয়মিত বোলার না থাকায় এই ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই সুযোগকেই ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী করে রাখলেন এই কিউই পেসার।