১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ হতে লাগল মাত্র ৪৫.৫ ওভার! যে খেলা শেষ হওয়ার কথা ছিল রাত ১০টায়, নাহিদ রানার গতির ঝড়ে ইফতারের আগেই মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে উৎসবের আমেজ। ২০৯ বল হাতে রেখেই পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
মাঠের বাইরের রোমাঞ্চ বনাম মাঠের লড়াই
জাতীয় নির্বাচনের পর মিরপুরের মাঠে আজ ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক। বিসিবি কর্তাদের ব্যস্ততা আর দর্শকদের শোরগোলের মাঝে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। তবে মাঠের লড়াই শুরু হতেই সব আলো কেড়ে নিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তার গতির সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা যেন স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে গেলেন।
নাহিদের ‘ফাইভ স্টার’ পারফরম্যান্স
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের শুরুটা মন্দ ছিল না। কিন্তু দশম ওভারে বল হাতে নিয়েই দৃশ্যপট বদলে দেন নাহিদ। নিজের প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতেই উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন তিনি।
- রেকর্ড: ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়লেন তিনি (এর আগে মুস্তাফিজের ৫/৭৫ ছিল সেরা)।
- রিজওয়ান বধ: অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ানকে পরাস্ত করতে নাহিদ তুলে রেখেছিলেন দিনের সেরা ডেলিভারিটি। গতির সাথে আউট সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন রিজওয়ান।
- গতি: এদিন নাহিদের সর্বোচ্চ গতি ছিল ১৪৮.৬ কিমি। ফাহিম আশরাফের বিপক্ষে একটি জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন রিভিউ না নেওয়ায় আক্ষেপ থাকলেও, ৭ ওভারের স্পেলে তিনি ছিলেন অদম্য।
মিরাজ-মুস্তাফিজের সঙ্গ ও তানজিদ ঝড়
নাহিদের তাণ্ডবের পর বাকি কাজটুকু সারেন অধিনায়ক মিরাজ। তিনি নেন ৩ উইকেট। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের ৩৭ রানের লড়াকু ইনিংসের সুবাদে পাকিস্তান ১১৪ রান তুলতে সক্ষম হয়। এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
১-১৫ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই চড়াও হন তানজিদ হাসান। মাত্র ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। সাইফ হাসান (৪) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (২৭) দ্রুত ফিরলেও তানজিদ ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন। ১৫.১ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।