পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন নাহিদ রানা। তার গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। তবে উইকেট পাওয়ার চেয়েও বড় চমক ছিল তার টানা সাত ওভারের লম্বা একটি স্পেল। সাধারণত নাহিদের মতো গতিময় পেসারদের চোটের ঝুঁকি এড়াতে ছোট ছোট স্পেলে বল করানো হয়, কিন্তু এদিন দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন।
এক স্পেলেই সাত ওভারের তান্ডব
দশম ওভারে যখন নাহিদ রানাকে আক্রমণে আনা হলো, পাকিস্তানের স্কোর তখন বিনা উইকেটে ৪২। টানা পাঁচ ওভারের স্পেল শেষে যখন থামলেন, পাকিস্তানের স্কোর তখন ৫ উইকেটে ৬৯! সবাই ভেবেছিল এবার হয়তো বিশ্রাম পাবেন তিনি। কিন্তু অধিনায়ক তাকে আরও দুই ওভার বোলিং করালেন। এক স্পেলেই টানা সাত ওভার! ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে একাই ধসিয়ে দিলেন প্রতিপক্ষকে। এমনকি আম্পায়ার এলবিডব্লিউর সাড়া দিলে বা বাংলাদেশ রিভিউ নিলে উইকেটের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।
লম্বা স্পেল নিয়ে যা বললেন নাহিদ
একজন ফাস্ট বোলারের জন্য টানা সাত ওভার বল করা বেশ ক্লান্তিকর, কিন্তু নাহিদের কাছে এটি বড় কোনো বিষয় নয়। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, দলের প্রয়োজনে তিনি যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।
নাহিদ বলেন, “আমি সবসময় ভাবি দল আমার কাছে কী চায়। আজকে যখন দেখছিলাম উইকেট পাচ্ছি এবং আমার বোলিং খেলতে ওদের কষ্ট হচ্ছে, তখন চেষ্টা করেছি ছন্দটা ধরে রাখতে। অধিনায়কও হয়তো তাই ভেবেছিলেন যে আমাকে দিয়ে আরও দু-একটা ওভার করানো যায় কি না।”
ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি: কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে তাকে বরাবরের মতোই ‘মন খুলে’ বল করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। নাহিদ মনে করেন, একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি।
তিনি আরও যোগ করেন, “দলের যদি মনে হয় আমাকে এক স্পেলে সাত ওভার বা টানা দশ ওভার বল করতে হবে, আমি তাতেও রাজি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে সেভাবেই ফিট রাখা উচিত এবং দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে তা বাস্তবায়ন করা আমার দায়িত্ব।”