আইপিএলে নতুন ঠিকানায় নাম লেখানোর পর ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা ধুঁকছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে প্রথম তিন ম্যাচে দুই অঙ্কও ছুঁতে না পারা এই তারকা অবশেষে স্বরূপে ফিরলেন। দিল্লির বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে উপহার দিলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি।
চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে শনিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন স্যামসন। তার ৫৬ বলের বিধ্বংসী ১১৫ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৫টি চার ও ৪টি ছক্কায়।
গত নভেম্বরে ট্রেড উইন্ডোর মাধ্যমে রাজস্থান রয়্যালস থেকে ১৮ কোটি রুপিতে চেন্নাইয়ে যোগ দেন স্যামসন। এই রেকর্ড দলবদলের পর থেকেই তাকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের নায়ক এবং টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ায় সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল আরও বেশি। তবে আসরের শুরুতে প্রথম তিন ম্যাচে মাত্র ২২ রান করে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি।
দিল্লির বিপক্ষে এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে আইপিএলে নিজের দীর্ঘ পাঁচ বছরের আক্ষেপও মেটালেন স্যামসন। ২০২১ সালে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে শতকের পর এটিই তার প্রথম তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। এর পাশাপাশি লোকেশ রাহুলের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে তিনটি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সেঞ্চুরি করার অনন্য এক রেকর্ডও গড়লেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে দিল্লি ও ২০১৯ সালে রাজস্থানের হয়ে শতক হাঁকিয়েছিলেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১৯ বল খেলে ৯টি চারের সাহায্যে করেন ৪৫ রান। ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর শতক ছুঁতে পরের ২৫ বল খরচ করেন তিনি। ১৮তম ওভারে নাটারাজানকে চার মেরে ৫১ বলে নিজের কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন স্যামসন।
স্যামসনের এই মহাকাব্যিক ১১৫ ও তরুণ আয়ুশ মাত্রের ৫৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২১২ রানের পাহাড় গড়ে চেন্নাই সুপার কিংস।