বিসিবি পরিচালক হিসেবে নাজমূল আবেদীনের ঘনঘন বিদেশ সফর এবং এর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে। বিসিবির অর্থায়নে তার এই ভ্রমণগুলো থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট কতটা লাভবান হয়েছে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ঘটনার শুরু গত বছরের জানুয়ারিতে। বিপিএলের একাদশ আসর যখন মাঠ ও মাঠের বাইরের নানা বিতর্কে টালমাটাল, তখন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব নাজমূল আবেদীন (ফাহিম) দেশেই ছিলেন না। তিনি তখন মালেয়েশিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সফরসঙ্গী হিসেবে অবস্থান করছিলেন। বিপিএলের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট ফেলে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ একটি বয়সভিত্তিক আসরে তার যাওয়া নিয়ে বোর্ডের ভেতরেই তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। তৎকালীন বোর্ড সভাপতি ফারুক আহমেদের কাছে অনেক পরিচালক এ নিয়ে জবাবদিহিও চেয়েছিলেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পাঁচ দিন পর দেশে ফিরে আসেন তিনি।
বিসিবি পরিচালক হিসেবে নাজমূলের প্রায় ২০ মাসের কার্যকালে বিদেশ সফরের প্রতি এই বিশেষ অনুরাগ ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের হাতে আসা এক নথি অনুযায়ী, ১০টি সফরে তার বিমান ভাড়া বাবদ ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং দৈনিক ভাতা (ডিএ) বাবদ ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫০ টাকা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ, তার পেছনে বিসিবির মোট খরচ ৪০ লাখ ৬১ হাজার ৭৫০ টাকা।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ফারুক আহমেদ ও নাজমূল আবেদীন বিসিবিতে পরিচালক হিসেবে মনোনীত হন। শুরুতে ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে নাজমূলের গ্রহণযোগ্যতা থাকায় অনেকে আশাবাদী হলেও দ্রুতই তার ‘সফরপ্রীতি’ আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। পরিচালক হওয়ার প্রথম ১০ মাসেই তিনি ৯টি সফরে যান। আইসিসি বা এসিসি আসর ছাড়াও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এমনকি আরব আমিরাতের মতো অগুরুত্বপূর্ণ সফরেও তাকে দলের সাথে দেখা গেছে। শুরুতে তার দৈনিক ভাতা ৩০০ ডলার থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ৪০০ ডলার করা হয়েছিল।
সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠিত কমিটির সুপারিশে এই বোর্ড ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে নাজমূলের এই সফরগুলো নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। এ বিষয়ে জানতে নাজমূল আবেদীনকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তবে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিনি জানান, “সব তো বলা হয়ে গেছে… একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা ছিল, সেটা হয়েছে। নতুন করে আর কিছু বলার নেই।”
সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, “আমি সভাপতি থাকার সময় বিসিবির টাকায় মাত্র একটি বিদেশ সফরে গিয়েছি। এটা যার যার নিজের বোঝার ব্যাপার।” বিদায়ী বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক পরিচালক আরও কড়া ভাষায় বলেন, “আমি বোর্ডের টাকায় ভ্রমণ করিনি, উল্টো ডিএ-র টাকা পিয়নদের দিয়ে দিতাম। নৈতিকভাবে কে কতটা ঠিক করেছেন বা ক্রিকেটের কী লাভ হয়েছে, সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই ভালো বলতে পারবেন।”