মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ২২ গজের চিত্রটা এখন এমন যে, উইকেট আলাদা করে চেনাই দায়। চারদিকের সবুজ ঘাসের প্রান্তর যেন মিশে গেছে উইকেটের সাথে। টেস্ট শুরু হতে এখনো দুদিন বাকি, অথচ পুরো উইকেট তাজা সবুজ ঘাসে ঢাকা। যদিও ম্যাচের আগের দিন এবং সকালে দুই দফায় ঘাস ছেঁটে ফেলা হবে, তবুও উইকেটে যে ঘাসের ছোঁয়া ভালোভাবেই থাকবে, তা অনেকটা নিশ্চিত। আর তেমনটা হলে মিরপুরের ব্যাটিং স্বর্গে ব্যাটারদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষা।
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই টেস্টের উইকেটকে কোচ ফিল সিমন্স ‘ভালো উইকেট’ হিসেবেই দেখছেন। অন্যদিকে সবুজ উইকেট দেখে পাকিস্তানের গতিদানব শাহীন শাহ আফ্রিদিও বেশ রোমাঞ্চিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। মিরপুরে সাধারণত মন্থর ও টার্নিং উইকেট দেখা গেলেও এবার যে বিসিবির পরিকল্পনা ভিন্ন, তা উইকেটের চেহারা দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।
গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও ঘাসযুক্ত উইকেটে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় হয়তো টিম ম্যানেজমেন্ট এবার টেস্টেও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয়নি। এই কন্ডিশন যেমন পেসারদের জন্য আনন্দের খবর, তেমনি ব্যাটারদের জন্য কিছুটা আতঙ্কেরও বটে। তবে ঘাস ছাঁটার পর উইকেট যদি স্পোর্টিং থাকে, তবে শুরুতে টিকে থাকতে পারলে বড় সংগ্রহের সুযোগও থাকবে।
কোচ ফিল সিমন্স মূলত ব্যাটারদের সেই দায়িত্বটাই নিতে বলেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ বেশ শক্তিশালী হলেও ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে। সিমন্স মনে করেন, র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করতে হলে বিশ্বের সেরা বোলারদের সামলে বড় স্কোর গড়ার মানসিকতা রাখতে হবে। অন্যদিকে পাকিস্তানও প্রস্তুত হয়েই এসেছে। তাদের স্কোয়াডে যেমন নোমান আলি বা সাজিদ খানের মতো স্পিনার আছেন, তেমনি শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলিদের মতো ধারালো পেস আক্রমণও রয়েছে।
শাহীন আফ্রিদি তো হেসেই বললেন, “বাংলাদেশ সাধারণত ঘরের মাঠে স্পিন ট্র্যাকেই খেলে থাকে। তবে এখানে উইকেট সবুজ দেখে আমাদের বোলাররা বেশ খুশি। এই কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নিতে আমরা তৈরি।” শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টেস্টে তাই লড়াইটা হবে মূলত ব্যাটারদের ধৈর্য আর বোলারদের গতির মধ্যে।