বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—দুই দলের কেউই চলতি বছরে এখনো সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি। গত বছরের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষবার টেস্ট খেলেছিল পাকিস্তান। আর বাংলাদেশ সবশেষ টেস্ট সিরিজ খেলেছে গত নভেম্বরে, যেখানে আয়ারল্যান্ডকে ২–০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছিল তারা।
মাঝের এই দীর্ঘ সময় ক্রিকেটাররা মেতে ছিলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বিপিএল আর পাকিস্তানিরা পিএসএল মাতানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপেও লড়াই করেছেন। এর মধ্যে মার্চে দুই দল একটি ওয়ানডে সিরিজও খেলেছে। তবে এখন সময় রাজকীয় ফরম্যাটে ফেরার। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে তাঁরা টেস্টের জন্য পুরোপুরি তৈরি। শাহীনের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানে প্রস্তুতি নেওয়ার পর এখানেও কয়েক দিন ভালো অনুশীলন হয়েছে। সামনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজসহ লম্বা এক মৌসুমের চ্যালেঞ্জ নিতে তারা মুখিয়ে আছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবশেষ টেস্ট স্মৃতি অবশ্য মোটেও সুখকর নয়। রাওয়ালপিন্ডিতে ২–০ ব্যবধানে সিরিজ হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিল তারা। তবে সেই তিক্ত অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে তাকাতে চান শাহীন। তিনি বলেন, “অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য এখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা। শুধু একটা সিরিজ নয়, আমাদের স্বপ্ন আরও বড়।” উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫ টেস্টের লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয় ওই দুটিই। তবে ঘরের মাঠে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানকে হারানোর সুখস্মৃতি আত্মবিশ্বাস জোগাবে শান্ত-লিটনদের।
মিরপুরের উইকেট এবার বেশ স্পোর্টিং হতে যাচ্ছে। ম্যাচ শুরুর দুদিন আগেও উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া দেখা গেছে। এমন উইকেটে পেসাররাই হতে পারেন তুরুপের তাস। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় ভরসা হয়ে উঠবেন নাহিদ রানা। সাম্প্রতিক সময়ে গতির ঝড়ে ব্যাটসম্যানদের কাবু করা নাহিদকে নিয়ে শাহীনও প্রশংসা ঝরালেন। তিনি নাহিদকে বাংলাদেশের বড় এক সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করে রসিকতা করে বলেন, “আশা করি ও আমাদের বিপক্ষে ফর্মে থাকবে না।”
আগামী শুক্রবার মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি ১৬ মে থেকে অনুষ্ঠিত হবে চায়ের দেশ সিলেটে।