মিরপুরের আকাশে তখন রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি। কখনো ঝমঝমে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, তো কখনো মেঘ চিরে বেরিয়ে আসা কড়া রোদ। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণের মাঝেও বাইশ গজে পুরোটা সময় অবিচল ছিলেন একজন—মেহেদী হাসান মিরাজ। ধ্রুপদী অফ স্পিনের মায়াজালে তিনি শুধু পাকিস্তানকে আটকালেনই না, মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশকে পাইয়ে দিলেন অমূল্য এক লিড।
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর মূল কারিগর মিরাজ। ৩৮ ওভারের ম্যারাথন স্পেলে ২.৬৮ ইকোনমিতে ১০২ রান দিয়ে শিকার করেছেন ৫ উইকেট। রানের সংখ্যাটা তিন অংকের ঘরে গেলেও উইকেট প্রাপ্তি আর মিতব্যয়ী বোলিংয়ে তিনিই ছিলেন দলের সেরা বোলার।
পেসারদের ভিড়ে স্পিনের দাপট
সবুজ উইকেটে প্রত্যাশা ছিল পেসারদের নিয়ে। এমনকি দ্বিতীয় দিনের ব্যর্থতার পর কোচ সালাউদ্দিনও তাকিয়ে ছিলেন পেসারদের দিকে। তাসকিন আহমেদ সকালে আজান আওয়াইস ও শান মাসুদকে ফিরিয়ে প্রত্যাশার প্রতিদানও দিচ্ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামানোর মূল কাজটা করেছেন মিরাজই। সাউদ শাকিলকে শূন্য রানে ফেরানোর পর থিতু হওয়া আব্দুল্লাহ ফাজালকেও (৬০) সাজঘরের পথ দেখান তিনি। শেষ দিকে নোমান আলী ও শাহীন আফ্রিদিকে আউট করে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ১৪তম ‘ফাইফার’।
সাফল্যের নেপথ্যে ‘পার্টনারশিপ বোলিং’
মিরপুরের উইকেট তৃতীয় দিনে স্পিনারদের জন্য খুব একটা স্বর্গরাজ্য ছিল না। টার্ন ছিল সামান্য, বাড়তি বাউন্সও মিলছিল খুব কম। এমন উইকেটে নিজের সাফল্যের রহস্য মিরাজ জানালেন দিনের খেলা শেষে:
“উইকেট খুব ভালো ছিল, শুরুর দিকে ওরা দারুণ ব্যাটিং করেছে। আমার লক্ষ্য ছিল বাড়তি কিছু না করে শুধু এক জায়গায় বল ফেলে রাখা। সব বল যে স্পিন করেছে তা নয়, কিছু বল সোজা গেছে আবার কিছু বল ঘুরেছে—এই দোলাচলই ব্যাটারদের মনে সংশয় তৈরি করেছে।”
মিরাজ আরও গুরুত্ব দিলেন তাসকিনের সঙ্গে তার বোলিং জুটির ওপর। তার মতে, রান আটকে রাখাটাই ছিল আসল কৌশল:
“আমি আর তাসকিন প্রান্ত বদল করে খুব আঁটসাঁট বোলিং করেছি। তাসকিন যখন রান আটকেছে তখন আমি উইকেট পেয়েছি, আবার আমি যখন চেপে ধরেছি তখন তাসকিন সফল হয়েছে। টেস্টে ব্যাটারকে রান করতে না দিলে সুযোগ আসবেই।”
অদম্য মানসিকতা ও লিড
মাঝপথে রিজওয়ান ও সালমানের শতরানের জুটি বাংলাদেশকে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেললেও শেষ ৫ উইকেট দ্রুত তুলে নিয়ে ২৭ রানের লিড পায় টাইগাররা। মিরাজের বিশ্বাস, বোলারদের এই আধিপত্য ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ৫৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৪ বার ৫ উইকেট নিয়ে মিরাজ এখন কেবল তাইজুল (১৭ বার) ও সাকিবের (১৯ বার) পেছনে আছেন। তবে বর্তমান ফর্ম আর আত্মবিশ্বাস বলছে, সামনে আরও বড় অর্জনের অপেক্ষায় আছেন এই অলরাউন্ডার।