একটুর জন্য অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়া হলো না নাজমুল হোসেন শান্তর। আম্পায়ার আঙুল তোলার পর রিভিউ নিতে দেরি করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক, কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। হতাশ হয়ে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন তার নামের পাশে ৮৭ রান। অথচ আর মাত্র ১৩টি রান করতে পারলেই টেস্ট ইতিহাসের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যেতেন তিনি।
মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই আউট হওয়ার মাধ্যমে শান্তর সামনে থাকা বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগটি হাতছাড়া হলো। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি করতে পারলে একই টেস্টের দুই ইনিংসে শতক হাঁকানোর কীর্তি গড়তেন তিনবার, যা বিশ্ব ক্রিকেটে এক বিরল ঘটনা।
রেকর্ড গড়ার সেই হাতছানি
এক টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি তিনবার করার রেকর্ড আছে কেবল তিন কিংবদন্তির—সুনিল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং এবং ডেভিড ওয়ার্নার। শান্তর সামনে সুযোগ ছিল চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে এই তালিকায় নাম লেখানোর। কিন্তু দলের প্রয়োজনে দ্রুত রান তোলার তাড়ায় শেষ পর্যন্ত নিজের মাইলফলকটি পূর্ণ করতে পারলেন না তিনি। নোমান আলিকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়েই এলবিডব্লিউর শিকার হন টাইগার অধিনায়ক। পরিস্থিতির দাবি মেটাতে গিয়ে হয়তো নিজের রেকর্ডটি বিসর্জন দিতে হলো তাকে।
শান্তর আগের জোড়া সেঞ্চুরি
এক টেস্টে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করার অভিজ্ঞতা শান্তর জন্য নতুন নয়। এর আগে দুইবার এই অনন্য স্বাদ পেয়েছেন তিনি:
- ২০২৩ বনাম আফগানিস্তান (মিরপুর): প্রথম ইনিংসে ১৪৬, দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪।
- ২০২৪ বনাম শ্রীলঙ্কা (গালে): প্রথম ইনিংসে ১৪৮, দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৫*।
বিশ্ব ক্রিকেটে দুইবার জোড়া সেঞ্চুরি করে শান্ত বর্তমানে রাহুল দ্রাবিড়, কুমার সাঙ্গাকারা, ম্যাথু হেইডেন এবং জ্যাক ক্যালিসদের মতো কিংবদন্তিদের সারিতে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশি হিসেবে অনন্য শান্ত
বাংলাদেশের হয়ে শান্ত ছাড়া জোড়া সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে কেবল মুমিনুল হকের। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে ১৭৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রান করেছিলেন তিনি। তবে শান্তর বিশেষত্ব হলো, তিনি এই কাজ করে দেখিয়েছেন দুইবার, যা দেশের ক্রিকেটে আর কেউ করতে পারেননি। আজ শতরান পূর্ণ করতে পারলে মুমিনুলের ২৮১ রানের (এক টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান) রেকর্ডটিও হয়তো ভেঙে দিতেন শান্ত। শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানে থামলেও তার এই সাহসী ব্যাটিং বাংলাদেশকে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে।