BN

ভয়ংকর সুন্দর বোলিংয়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙলেন নাহিদ রানা

ভয়ংকর সুন্দর বোলিংয়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙলেন নাহিদ রানা

মিরপুর টেস্টের দুই দিনে বৈশাখের বৃষ্টির পরশ পেয়েছে পাকিস্তান দল। কালবৈশাখী ঝড়ের

মিরপুর টেস্টের দুই দিনে বৈশাখের বৃষ্টির পরশ পেয়েছে পাকিস্তান দল। কালবৈশাখী ঝড়ের রূপ তারা হয়তো দেখেনি, কিন্তু নাহিদ রানার বোলিং তোপের দাপট তারা ঠিকই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। মিরপুর টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ রানাকে নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে নাজমুল হোসেন শান্ত হাসিমুখে বললেন যে, তার দলের এই ফাস্ট বোলারকে দেখে পাকিস্তানিদের ভয় পাওয়াটা তিনি দারুণ উপভোগ করেছেন। বাংলাদেশ অধিনায়কের এই ছোট্ট কথাটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে অনেক না বলা গল্প।

বাংলাদেশের একজন পেসারের গতি দেখে ম্যাচের আগেই প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমে ভয়ের চোরাস্রোত বয়ে যাচ্ছে কিংবা উইকেটে ব্যাটসম্যানদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ ফুটে উঠছে—এসব এতদিন আমাদের ক্রিকেটে রূপকথার মতো ছিল। সেই কাল্পনিক গল্পগুলোকেই এখন বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন নাহিদ রানা। কোনো ফাস্ট বোলারকে দেখে যখন ব্যাটসম্যানরা কুঁকড়ে যায় এবং বল যখন সাপের মতো ফণা তুলে ছোবল দেয়, সেই ধ্বংসাত্মক রূপের মাঝেও এক ধরনের সৌন্দর্য আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেই ভয়ংকর সুন্দর আখ্যান হয়েই এসেছেন নাহিদ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৪ রানের জয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন শান্ত নিজে। দুই ইনিংসে ১০১ ও ৮৭ রানের ইনিংস খেলার পর এই পুরস্কার তার প্রাপ্যই ছিল। মুমিনুল, মুশফিক, তাসকিন বা মিরাজদের অবদানও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বড় সত্যিটা হলো—নাহিদ রানা না থাকলে বাংলাদেশ হয়তো এই ম্যাচটি জিততে পারত না।

চা-বিরতির পর পাকিস্তান যখন ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই করছিল, তখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল কোনো অলৌকিক কিছু কিংবা আগুনের গোলা। অতীতে এমন বহু ম্যাচে বোলারদের ধারহীন বোলিংয়ের কারণে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু এবার নাহিদ রানা ছিলেন। সাউদ শাকিলকে ফিরিয়ে তিনি যখন জুটি ভাঙলেন, দৃশ্যত সেটি আলগা শট মনে হলেও এর পেছনে ছিল রানার গতির মনস্তাত্ত্বিক চাপ। শাকিলের পা হয়তো সেই গতির কথা ভেবেই সময়মতো নড়েনি।

পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদও স্বীকার করেছেন যে, ওই জুটি আর আধা ঘণ্টা টিকে গেলে আলো কমে আসত এবং ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে যেত। কিন্তু নাহিদ রানা শুধু মোড় ঘুরিয়ে দেননি, চোখের পলকে দলকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছেন। মাত্র ৪.৫ ওভারের বিধ্বংসী স্পেলে ১০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের সব আশা।

সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে বারবার এল তাকে ঘিরে প্রতিপক্ষের ভয়ের প্রসঙ্গটি। নাহিদ যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন, তখন শাহিন শাহ আফ্রিদি তাকে বাউন্সার দিয়েছিলেন। একজন ফাস্ট বোলারের অহমে তা চোট দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। নাহিদ সেই জবাবটা সুদে-আসলে ফিরিয়ে দিয়েছেন শাহিন এবং পুরো পাকিস্তান দলকে। শান্ত নিজেও সেই ভীতিটাকে উদযাপন করছেন। তিনি বলেন:

“রানা কতটা স্পেশাল এবং ও কত জোরে বল করে সেটা আমরা জানি। ওর স্কিলেও উন্নতি হচ্ছে এবং ও নিজেও এটা উপভোগ করছে। প্রতিপক্ষ যেভাবে ওর সামনে ভয় পাচ্ছিল, এটা দেখতেও ভালো লাগে। আমি খুশি যে ও নিয়মিত অবদান রাখছে।”

আফ্রিদির বাউন্সারের জবাব দেওয়া নিয়ে খোঁচা দিয়ে শান্ত আরও যোগ করেন:

“রানাকে বাউন্সার মারলে আবার বাউন্সার খেতেও হবে। আমি হলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না! কারণ অত জোরে বাউন্সার খাওয়ার শখ আমাদের নেই। ভালো লাগে যে এখন আমরাও পাল্টা জবাবটা দিতে পারি। আমাদেরও এখন ওরকম বোলিং শক্তি আছে যা বড় দল গড়ার জন্য খুব জরুরি।”

সর্বশেষ সংবাদ

চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা দেইয়ান কুলুসেভস্কির জন্য

শিরোপাশূন্য একটি মৌসুম, মাঠের পর মাঠে জঘন্য পারফরম্যান্স আর

সাউদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটিতে ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন

ফুটবল

চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা দেইয়ান কুলুসেভস্কির জন্য আর

ফুটবল

শিরোপাশূন্য একটি মৌসুম, মাঠের পর মাঠে জঘন্য পারফরম্যান্স আর ড্রেসিংরুমের

ক্রিকেট

সাউদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটিতে ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন দেখছিল

ক্রিকেট

মোহাম্মদ রিজওয়ানের চোখেমুখে তখন অবিশ্বাস্য বিস্ময়। বলটি একদম শেষ মুহূর্তে