চলতি সিরিজে এখন পর্যন্ত ৪০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি পাকিস্তান। এমনকি নিজেদের গত ১০টি টেস্ট ইনিংসেও ৪০০ রানের মুখ দেখেনি তারা। তবে ক্রিকেট ইতিহাসের সব পরিসংখ্যান পাশে সরিয়ে রেখে এখনো ৪৩৭ রান তাড়া করে জয়ের আশা জিইয়ে রাখছেন পাকিস্তানের বোলিং কোচ উমর গুল। টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শ বছরের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো নজির না থাকলেও, গুল শোনালেন ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তার সেই চিরন্তন রূপকথা।
সিলেট টেস্টে ম্যাচ জিততে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে দুই ওভার ব্যাটিং করে কোনো রান না তুললেও কোনো উইকেট হারায়নি পাকিস্তান।
টেস্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার বিশ্বরেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে, যা তারা ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গড়েছিল। ফলে এই ম্যাচ জিততে হলে পাকিস্তানকে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতা নতুন করে লিখতে হবে।
বর্তমানে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের যে হতশ্রী দশা এবং বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ যেভাবে ছন্দ ছড়াচ্ছে, তাতে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনাকে ‘সামান্য’ বলাটাও হয়তো বাড়িয়ে বলা হবে। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসেও লঙ্কান কন্ডিশনে তারা গুটিয়ে গেছে মাত্র ২৩২ রানে, আর এর আগের টেস্টের শেষ ইনিংসে তাদের দৌড় থামে ১৬৩ রানে।
এমন কঠিন বাস্তবতার মাঝে দাঁড়িয়েও তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আশার বাণী শোনালেন পাক বোলিং কোচ, “আমাদের হাতে এখনো পুরো দুই দিন সময় আছে। আকাশ মেঘলা থাকুক আর বৃষ্টিই হোক, আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত যে ম্যাচের আরও অনেকটা সময় বাকি। আমরা যদি উইকেটে টিকে থেকে পুরো সময়টা ব্যাটিং করতে পারি, তবে জেতার একটা সুযোগ থাকবে। কারণ আমরা শুধু ড্রয়ের জন্য খেলছি না।”
উমর গুল আরও যোগ করেন:
“আমি আগেই বলেছি, আমরা এই রান তাড়া করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। এখানে বড় দুটি বা তিনটি জুটি গড়া আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। ৪৩৭ রান তাড়া করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সাহসী হতে হবে এবং ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে। ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই সম্ভব, আর এখনো দুই দলের জন্যই সুযোগ খোলা আছে।”
প্রায় অসম্ভব এই লক্ষ্য পূরণে পাকিস্তানের বোলিং কোচকে কিছুটা ভরসা জোগাচ্ছে সিলেটের উইকেট, “সত্যি বলতে, প্রথম দিন সকালে কিছুটা আর্দ্রতা থাকায় উইকেট বোলারদের সাহায্য করেছিল এবং বল সিম ও সুইং হচ্ছিল। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে পিচ ব্যাটসম্যানদের জন্য পুরোপুরি উপযোগী ছিল। বল খুব সুন্দরভাবে ব্যাটে আসছে এবং শট খেলার জন্য ব্যাটসম্যানরা পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে। ব্যাটিংয়ের জন্য পিচ এখনো বেশ ভালো।”