শিরোপা লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত
শুরুতেই বাংলাদেশের এগিয়ে নেন প্রতিমা মুন্দা। পরে বদলি নেমে আলো ছড়ান আলপি আক্তার। নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে, টানা তিন জয়ের ধারায়, সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।
পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে বুধবার রাউন্ড রবিন লিগে আয়োজক নেপালকে জয়ী হয় বাংলাদেশ। এ জয় দিয়ে বাংলাদেশের ৯ পয়েন্ট হয়, রাউন্ড রবিন লিগের শীর্ষে। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। এই দুই দল শনিবার মুখোমুখি হবে শিরোপা লড়াইয়ে।
রাউন্ড রবিন লিগে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জাল পেয়েছিলেন অধিনায়ক অপির্তা বিশ্বাস ও আলপি।
নেপালের বিপক্ষে প্রথম একাদশে কোচ পিটার জেমস বাটলার রাখেননি আলপি, শান্তি মার্দি ও অর্পিতাদের। তবুও ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ায় জয় নিশ্চিত হয়। মামনি চাকমার কর্নারে দূরের পোস্টে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন প্রতিমা মুন্দা।
১৯তম মিনিটে বর্ষার হেড অনায়াসে জমান ইয়ারজান বেগম। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বক্সের বাইরে ফ্রি কিক থেকে আলপি দুর্দান্ত শটে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণ বাড়ে। ৬১তম মিনিটে শান্তির চিপ শট ডিফেন্ডাররা রুখলেও, পরে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন আলপি। সতীর্থের থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি গোলকিপারের পাশ দিয়ে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন।
৮২তম মিনিটে চতুর্থ গোল পায় বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে আসা বল নেপালের এক ডিফেন্ডারের পা লাগার পর আলিজার কাছে যায়, তিনি শট নেন, কিন্তু সংযোগ ঠিকঠাক না হওয়ায় বল পোস্টের দিকে যায়। গোলকিপার রুখতে ব্যর্থ হলে আলপি সুযোগ কাজে লাগান।
ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে নেপালের হতাশা আরও বাড়ে, যখন মায়া মাসকি আলপিকে টেনে ধরে লাল কার্ড পান।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এখন পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ মিলিয়ে ছয়বার আয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ চারবার চ্যাম্পিয়ন, ভারত একবার। ২০২৪ সালের আসরে যৌথভাবে সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে এর আগে দুইবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। ২০২১ সালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ম্যাচ কমিশনারের আলোচিত ‘টস কাণ্ডের’ পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছিল।