অস্ট্রেলিয়ায় উইমেন’স এশিয়ান কাপে অভিযান শেষ করে দেশে ফেরার কথা ছিল ইরান দলের। কিন্তু দেশে ফিরলে তাদের ভাগ্যে কী ঘটবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিবিসির খবর অনুযায়ী, দলের পাঁচজন ফুটবলার বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার একটি ‘সেফ হাউসে’ আশ্রয় নিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও জাতীয় সঙ্গীত বিতর্ক
প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলার আগে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই ইরানে তাদের নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এক প্রভাবশালী টিভি উপস্থাপক তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। যদিও পরের ম্যাচগুলোতে তারা জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছেন, তবে অনেকের ধারণা, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর চাপের মুখে তারা এমনটা করতে বাধ্য হয়েছেন।
হোটেলের নাটকীয় দৃশ্য ও সমর্থকদের প্রতিবাদ
ফিলিপিন্সের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর গোল্ড কোস্টে শত শত সমর্থক ইরানি দলের বাস ঘিরে ধরেন। তারা ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। অন্যদিকে, হোটেলের লবিতে খেলোয়াড়দের আতঙ্কিত অবস্থায় ছোটাছুটি করতে এবং অ্যাক্টিভিস্টদের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে।
বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
- ফিফপ্রো: ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো সিডনিতে ফিফা এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে।
- ডনাল্ড ট্রাম্প: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই ফুটবলারদের ইরানে ফেরত পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়া একটি ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ করছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া আশ্রয় না দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিয়ে যাবে।
বর্তমান পরিস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ওই অঞ্চলের আকাশপথ প্রায় বন্ধ। এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই নারী ফুটবলারদের জীবন নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুটবলারদের একটি অংশ আশ্রয় চাইছে, আর একটি অংশ দেশে ফেরা নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।