বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র তিন মাস। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক লড়াই। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা আর সংঘাতের আঁচ এবার লাগল ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে। ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালির সোজাসাপ্টা কথা—যাদের হাতে তাদের নেতার রক্ত লেগে আছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে না ‘পার্সিয়ান লায়ন’রা।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ‘যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, কোনো অবস্থাতেই তাদের দেশে আমরা বিশ্বকাপে খেলতে পারি না।’ মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রীর মতে, যেখানে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই, সেখানে খেলার প্রশ্নই আসে না।
গ্রুপ ‘জি’ এবং সূচি নিয়ে জটিলতা
ড্র অনুযায়ী ইরান ছিল গ্রুপ ‘জি’-তে। তাদের সাথে আছে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা ছিল। এমনকি সমীকরণ মিলে গেলে আগামী ৩ জুলাই শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মুখোমুখি হওয়ারও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে ফিফার প্রস্তুতি সভায় ইরানের অনুপস্থিতি তাদের বর্জনের ইঙ্গিতকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর অবস্থান
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘পরাজিত দেশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখনো আশাবাদী। ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, ইরান টুর্নামেন্টে অংশ নিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো আপত্তি নেই এবং তিনি তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইনফান্তিনোর বিশ্বাস, বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতার মাঝে এই বিশ্বকাপ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বড় সুযোগ হতে পারে।
ফিফা এখন কোন পথে?
ফিফার কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের কারণে টুর্নামেন্ট পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আশা করছেন সব দেশই অংশ নেবে। তবে ইরান যদি শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে ফিফা কী ব্যবস্থা নেবে তা দেখার বিষয়। এর আগে ইসরায়েলকে আতিথ্য দিতে না চাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার স্বাগতিক মর্যাদা কেড়ে নিয়েছিল ফিফা। এবার স্বয়ং আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের এই অনড় অবস্থান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।