লা লিগায় শততম ম্যাচের মাইলফলক ছোঁয়ার রাতটি দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্সে রাঙালেন লামিনে ইয়ামাল। নিজেও গোল করলেন, আবার সতীর্থের দুই গোলেও রাখলেন সরাসরি অবদান। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথে বার্সেলোনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিলেন এই তরুণ বিস্ময়।
শনিবার কাম্প নউয়ে ডার্বি ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন ফেররান তরেস, যার দুটিতেই ছিল ইয়ামালের ছোঁয়া। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে ইয়ামাল নিজে জালের দেখা পান, আর অন্য গোলটি আসে মার্কাস র্যাশফোর্ডের পা থেকে।
স্কোরলাইন দেখে জয়টা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, মাঠের লড়াই ঠিক ততটা সহজ ছিল না। এস্পানিওল গোল করে ব্যবধান কমানোর পর ৮৭ মিনিট পর্যন্ত বার্সেলোনাকে বেশ চাপে রেখেছিল। তবে শেষ মুহূর্তের দুই গোল সব অনিশ্চয়তা দূর করে দেয়। আগের দিন রেয়াল মাদ্রিদ জিরোনার সাথে পয়েন্ট হারানোয় ব্যবধান বাড়ানোর যে সুযোগ বার্সার সামনে ছিল, তা পূর্ণ শক্তি দিয়েই কাজে লাগাল তারা। ৩১ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে কাতালানরা, সমান ম্যাচে রেয়ালের পয়েন্ট ৭০।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বার্সেলোনা দশম মিনিটে তরেসের হেডে এগিয়ে যায়। ১০ ম্যাচ পর গোলের দেখা পাওয়া এই ফরোয়ার্ড ২৫ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। তবে স্পটলাইট ছিল ইয়ামালের ওপর। ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই লা লিগায় প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়লেন তিনি। ১৮ বছর ২৭২ দিন বয়সে এই মাইলফলক ছুঁয়ে তিনি পেছনে ফেললেন কিংবদন্তি রাউল গন্সালেসকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৫৪ মিনিটে এস্পানিওলের পল লোসানো গোল করে ব্যবধান কমালে ম্যাচ জমে ওঠে। এরপর বেশ কিছুক্ষণ বার্সেলোনাকে রক্ষণে ব্যস্ত রাখে এস্পানিওল। তবে ৮৭ মিনিটে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটান ইয়ামাল। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে লিগে নিজের শততম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। দুই মিনিট পর ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের সাজিয়ে দেওয়া বলে র্যাশফোর্ড গোল করলে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার।