BN

দাপুটে পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ

দাপুটে পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার একশ বা তার বেশি রানে হারার তিক্ত

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার একশ বা তার বেশি রানে হারার তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো অস্ট্রেলিয়ার। লাহোরে রোববার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের কাছে ১১১ রানে বিধ্বস্ত হয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পড়ল সফরকারীরা।

ব্যাট হাতে শুরুতেই ম্যাচের সুর বেঁধে দেন সাইম আইয়ুব। দায়িত্বশীল ফিফটি করেন বাবর আজম, আর শেষদিকে শাদাব খানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বিশাল সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। পরে মোহাম্মাদ নাওয়াজের দুর্দান্ত স্পিন আক্রমণে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবারও মুখ থুবড়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

২০ ওভারে ২০৭ রান তোলে পাকিস্তান, যা টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম দুইশ ছাড়ানো সংগ্রহ। আগের ম্যাচে করা ১৯৮ রানই ছিল তাদের সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটি সব দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। আগের রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ডের, যারা ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকে ১০০ রানে হারিয়েছিল।

ইনিংসের শুরুতে ফাখার জামান দুই চার হাঁকিয়ে আশার সঞ্চার করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। সালমান আলি আগাও দ্রুত ফিরে যান। ৩৪ রানে দুই উইকেট হারানো পাকিস্তানকে টেনে তোলেন সাইম ও বাবর। তৃতীয় ওভারে কুপার কনোলিকে টানা তিন চার মারেন সাইম, পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ম্যাথু শর্টকে মারেন চার ও ছক্কা। পরের ওভারে অ্যাডাম জ্যাম্পাকে একটি করে ছক্কা মারেন সাইম ও বাবর।

কনোলিকে চার মেরে ৩০ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন সাইম। তবে ইনিংস বড় করতে না পেরে কুনেমানের বলে ম্যাট রেনশর দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে যান তিনি। ভাঙে ৬৯ রানের ওপেনিং জুটি। এরপর ঝড়ের আভাস দিয়ে খাওয়াজা নাফে ১২ বলে ২১ রান করে বিদায় নেন।

এরপরই শুরু হয় শাদাব খানের তাণ্ডব। শর্টকে চার ও ছক্কা মারার পর কনোলিকে টানা দুই ছক্কায় উড়িয়ে দেন তিনি। ডোয়ার্শিসকে পরপর দুই ছক্কা মারলেও পরের বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন শাদাব। ১৯ বলে পাঁচ ছক্কা ও দুটি চারে ৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি।

অন্যদিকে বাবর আজম ছিলেন পুরো ইনিংস জুড়ে শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৩৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ৩৯টি ফিফটির নতুন রেকর্ড গড়েন বাবর, পেছনে ফেলেন বিরাট কোহলির ৩৮ ফিফটির কীর্তি।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের চতুর্থ বলেই অধিনায়ক মিচেল মার্শকে বোল্ড করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। পরের ওভারে ম্যাথু শর্টকে ফিরিয়ে নিজের শিকার শুরু করেন মোহাম্মাদ নাওয়াজ। আফ্রিদি নিজের পরের বলেই রেনশকে বোল্ড করলে মাত্র ১৬ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন ও মার্কাস স্টয়নিস। তবে দশম ওভারের প্রথম ও শেষ বলে দুজনকেই বোল্ড করে সেই আশা ভেঙে দেন নাওয়াজ। নিজের শেষ ওভারে তিন বলের ব্যবধানে জশ ফিলিপি ও কুপার কনোলিকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

শেষ পর্যন্ত ১৬.৫ ওভারে মাত্র ৯৬ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তাদের কোনো ব্যাটসম্যানই ফিফটি তো দূরের কথা, ২৫ রানও করতে পারেননি। চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মোহাম্মাদ নাওয়াজ। দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে এটি তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার।

তিন ম্যাচের সিরিজে ১২০ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতে নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা।

সব মিলিয়ে ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল স্বাগতিক পাকিস্তান।

সর্বশেষ সংবাদ

মৌসুমের এই সময়ে এসে কোনো ভুল করার সুযোগ নেই—ম্যানচেস্টার

“আমিও ভালো কিছু বলিনি, ও-ও বলেনি”—লিটনের সাথে সেই বাগবিতণ্ডা

মাঠের ভেতরে মেহেদী হাসান মিরাজ আর সালমান আলী আগার

ফুটবল

মৌসুমের এই সময়ে এসে কোনো ভুল করার সুযোগ নেই—ম্যানচেস্টার সিটি

ক্রিকেট

“আমিও ভালো কিছু বলিনি, ও-ও বলেনি”—লিটনের সাথে সেই বাগবিতণ্ডা নিয়ে

ক্রিকেট

মাঠের ভেতরে মেহেদী হাসান মিরাজ আর সালমান আলী আগার সেই

ফুটবল

ছোটবেলায় যে ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফুটবলে হাতেখড়ি হয়েছিল, সেই