লিওনেল মেসি আর বার্সেলোনা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। খুব অল্প বয়সে অভাবের তাড়নায় দেশ ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমানো, আর সেখানে গিয়ে নিজের জাদুকরী ফুটবলে বিশ্বকে মোহিত করা—এই গল্প এখন ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে। কিন্তু একটা সময় এসেছিল যখন মেসির সামনে সুযোগ ছিল স্পেনের জার্সি গায়ে জড়ানোর। তবে কেন তিনি সেই লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন? ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায় এসে সেই পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করলেন এই মহাতারকা।
সম্প্রতি ‘মিরো দে আত্রাস’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি ফিরে যান প্রায় দুই যুগ আগে, যখন তিনি বার্সেলোনার যুব দলে নিজের জাত চেনাচ্ছেন। ৩৮ বছর বয়সেও যার পায়ের জাদু কমেনি, সেই মেসি জানালেন শৈশবের সেই দোদুল্যমান সময়ের কথা।
ফাব্রেগাসের সেই ম্যাচ ও স্পেনের প্রস্তাব
মেসি জানান, বার্সেলোনায় খেলার সময় স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে খেলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল তাকে। বিষয়টি বেশ স্বাভাবিকই ছিল, কারণ অনেক তরুণ ফুটবলারই তখন এমনটা করছিলেন। কিন্তু মেসির মনে ছিল দ্বিধা। আর সেই দ্বিধার কারণেই ২০০৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলা হয়নি তার।
সেই আসরের সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। স্পেনের হয়ে সেস ফাব্রেগাস জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেন। মেসি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সে (ফাব্রেগাস) তখন আর্সেনালে খেলত। ওই ম্যাচের পর অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, আমি কেন স্পেনের হয়ে খেলছি না। মূলত সেখান থেকেই বিষয়টার শুরু।”
“মনে-প্রাণে আমি আর্জেন্টাইন” স্পেন থেকে সরাসরি প্রস্তাব পাওয়ার পরও মেসির সিদ্ধান্ত ছিল অটল। তিনি বলেন, “যদিও আমি খুব অল্প বয়সে বার্সেলোনায় গিয়েছিলাম এবং সেখানে সব বয়সভিত্তিক ধাপে খেলেছি, তবুও আমি মনে-প্রাণে একজন আর্জেন্টাইন। স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল এবং সেটা হতেও পারত, কিন্তু আমার সবসময়ের লালিত স্বপ্ন ছিল আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ানো।”
অপেক্ষার অবসান ও সোনালী সময়
মেসির সেই দেশপ্রেম বিফলে যায়নি। ২০০৪ সালে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলে অভিষেক, এরপর যুব বিশ্বকাপ জয় এবং ২০০৮ সালে অলিম্পিক সোনা—সাফল্য আসছিল ঠিকই, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে বড় ট্রফির আক্ষেপটা ফুরোচ্ছিল না। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে ঘুচে যায় সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।
রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা আগামী মাসে ফিনালিস্সিমা ম্যাচে সেই স্পেনেরই মুখোমুখি হবেন। এরপর জুন-জুলাইয়ে নামবেন নিজের মুকুট ধরে রাখার লড়াইয়ে—আরেকটি বিশ্বকাপে।