বিসিএল ওয়ানডে আসরের দ্বিতীয় রাউন্ডে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মধ্যাঞ্চল। নাঈম শেখের টানা দ্বিতীয় ফিফটি আর বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন আবু হায়দার রনি। পূর্বাঞ্চলকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকল মধ্যাঞ্চল।
বোলারদের হাত ধরে পূর্বাঞ্চলকে আটকে রাখা
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পূর্বাঞ্চলের শুরুটা মন্দ ছিল না। তবে টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের প্রায় সব ব্যাটার (প্রথম ৭ জনের ৬ জন) ২৫ রানের কোটা পার করলেও কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। জাকির হাসানের ৪৫ আর ইয়াসির আলির ৩৭ রানই ছিল উল্লেখযোগ্য।
মধ্যাঞ্চলের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ ছিলেন রকিবুল হাসান। ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান খরচায় তিনি তুলে নেন ৩টি উইকেট। শেষ দিকে রিপন মন্ডল ও তাসকিন আহমেদের সময়োচিত বোলিংয়ে পূর্বাঞ্চল ৯ উইকেটে ২৩৭ রানে থমকে যায়।
নাঈম-রনির বিধ্বংসী জুটি
২৩৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মধ্যাঞ্চল শুরুতে সাইফ হাসানকে হারালেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন নাঈম শেখ। আগের ম্যাচের ৬৯-এর পর আজ খেললেন ৯৮ বলে ৮৩ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস।
তবে ম্যাচের আসল চমক ছিল আবু হায়দার রনি। ৬ নম্বরে যখন তিনি নামলেন, তখনও লক্ষ্য বেশ দূরে। ইরফান শুক্কুর বা মোসাদ্দেকের মতো ব্যাটারদের বসিয়ে তাকে নামানোর সিদ্ধান্তটা শুরুতে বিস্ময় জাগালেও, রনি তার প্রতিদান দেন ব্যাট হাতে ঝড় তুলে। মাত্র ২৯ বলে ফিফটি স্পর্শ করার পর ৪২ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত এক ‘ক্যারিয়ার সেরা’ ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কার মার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- পূর্বাঞ্চল: ২৩৭/৯ (৫০ ওভার); জাকির ৪৫, ইয়াসির ৩৭; রকিবুল ৩/২৭।
- মধ্যাঞ্চল: ২৪০/৫ (৪৫.৩ ওভার); নাঈম ৮৩, আবু হায়দার ৬৬*, মোসাদ্দেক ২০*; নাঈম হাসান ২/৪১।
ফল: মধ্যাঞ্চল ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আবু হায়দার রনি।