ব্যাট চালিয়েই বলের গন্তব্য বুঝে গেলেন তানজিদ হাসান। বল সীমানা ছাড়ানোর আগেই দুই হাত উঁচিয়ে ধরলেন। আকাশপানে মুখ, কিন্তু চোখ দুটি বন্ধ। যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া এই বিশেষ মুহূর্তটি নিজের মতো করে অনুভব করতে চাইলেন। সেই মুখে উচ্ছ্বাসের চেয়েও বেশি ছিল স্বস্তির ছাপ। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা আড়াই বছরের। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে খেলা হয়ে গেছে ৭৫টি ম্যাচ। এর মধ্যে ১৬ বার ফিফটির দেখা পেলেও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারটি ছোঁয়া হচ্ছিল না। একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের জন্য যা ছিল বেশ বিব্রতকর। অবশেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে সেই সেঞ্চুরি খরা কাটালেন তিনি। ১০৭ বলে ১০৭ রানের এক অনবদ্য ইনিংস উপহার দিলেন তানজিদ। এই ইনিংসে ৬টি চারের পাশাপাশি ছিল ৭টি বিশাল ছক্কা।
এই ৭ ছক্কায় তানজিদ গড়েছেন নতুন নজির। পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের এক ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এমনকি মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটেও এর আগে কোনো বাংলাদেশি এক ইনিংসে এতগুলো ছক্কা মারতে পারেননি। অল্পের জন্য তিনি লিটন দাসের রেকর্ডটি (৮টি ছক্কা) ভাঙতে পারেননি।
তানজিদের এই সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি বড় আক্ষেপও ঘুচিয়েছে। দীর্ঘ ২৭ মাস ও ২৩টি ম্যাচ পর ওয়ানডেতে কোনো বাংলাদেশি ওপেনার সেঞ্চুরি পেলেন। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ১৬৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সৌম্য সরকার।
ম্যাচের শুরু থেকেই তানজিদের ব্যাটে ছিল আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক। হারিস রউফের গতিকে জয় করে দর্শনীয় সব শট খেলেছেন তিনি। ৪৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর একই ছন্দে এগিয়ে যান সেঞ্চুরির দিকে। ৯৪ রানে থাকা অবস্থায় সালমান আলি আগাকে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরেই পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক শতক।
সেঞ্চুরির পর ইনিংসটি আরও বড় করার সুযোগ ছিল। তবে আবরার আহমেদের বলে একটি আলগা শট খেলে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। আউট হয়ে ফেরার সময় তার চোখেমুখে হতাশা থাকলেও, ড্রেসিংরুমে ফেরার পর নিশ্চয়ই অনেকটা হালকা অনুভব করছেন তিনি। কাঁধ থেকে বড় একটা বোঝা যে নেমে গেল!