দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে তানজিদ হাসান তামিম যেন নতুন ডানা মেলেছেন। এখন তার আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নের সীমানা আকাশছোঁয়া। ২০টি সেঞ্চুরি করার যে প্রত্যাশা তার কোচ ব্যক্ত করেছেন, তানজিদ যেন তার চেয়েও বড় কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন বুনছেন।
প্রথম সেঞ্চুরিতেই থামছেন না তানজিদ লক্ষ্য এখন আরও বড়
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে মিরপুরের মাঠে ১০৭ রানের সেই দুর্দান্ত ইনিংসটি তানজিদের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আড়াই বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আর ৭৬টি ম্যাচ খেলার পর এই তিন অঙ্কের দেখা পাওয়াটা তার জন্য ছিল বিশাল এক স্বস্তির বিষয়।
কোচের চাওয়া আর তানজিদের আত্মবিশ্বাস
তানজিদের ছোটবেলার কোচ হান্নান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে তিনি ওয়ানডেতে তানজিদের নামের পাশে অন্তত ২০টি সেঞ্চুরি দেখতে চান। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে যখন তানজিদকে এই কথা জানানো হলো তখন তিনি হাসিমুখে জবাব দিলেন। ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনার আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন যে ইনশাআল্লাহ তিনি চেষ্টা করবেন এবং সংখ্যাটা হয়তো ২০ এর চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ স্বপ্ন দেখতে তো কোনো বাধা নেই।
পুরনো ভুল থেকে শিক্ষা
এর আগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১৬ বার হাফ সেঞ্চুরি করলেও সেগুলোকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারছিলেন না তানজিদ। এই আক্ষেপ তাকে পোড়াত। তবে এবার তিনি পণ করেছেন এই ভালো সময়টাকে যতটা সম্ভব লম্বা করার। তিনি বলেন
“আগে অনেকবার সেট হয়ে আউট হয়ে গিয়েছি। এবার চেষ্টা ছিল শুরুটা বড় করার। যা অতীত হয়ে গেছে তা নিয়ে আর ভাবতে চাই না বরং বর্তমানের এই ছন্দটা ধরে রাখতে চাই।”
সাহসী সেই ছক্কা
সেঞ্চুরির ঠিক আগে যখন তার রান ৯৪ তখন ছক্কা মেরে এক লাফে একশতে পৌঁছান তানজিদ। স্নায়ুর চাপে না ভুগে এমন ঝুঁকি নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান যে তার মানসিক অবস্থা খুব স্বচ্ছ ছিল। নিজের সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল বলেই তিনি এমন সাহসী শট খেলতে পেরেছেন।
যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
এই সাফল্যের পেছনে তানজিদ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স এবং ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ও সালাউদ্দিন স্যারকে। তবে আলাদা করে তিনি বিসিবির শাহরিয়ার নাফীসের নাম নিয়েছেন। নাফীস তাকে নিয়মিত মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতে এবং অনুপ্রাণিত হতে সাহায্য করেন বলে জানান এই তরুণ ওপেনার।