ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ যেন কাটছেই না। আরও একবার নেইমার জুনিয়রকে দলের বাইরে রেখেই স্কোয়াড ঘোষণা করলেন সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে এখনই সব আশা শেষ হয়ে যাচ্ছে না; আনচেলত্তির সাফ কথা—নেইমার যদি নিজেকে শতভাগ ফিট প্রমাণ করতে পারেন, তবেই বিশ্বকাপের টিকিট পাবেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ব্রাজিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২৬ মার্চ বস্টনে ফ্রান্স এবং ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই দুটি ম্যাচের দলেই নেইমারের জায়গা হয়নি, যা তার বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ আরও ঘনীভূত করেছে।
মূলত ১০ মার্চ সান্তোসের হয়ে একটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল নেইমারের, যা গ্যালারিতে বসে দেখার কথা ছিল খোদ আনচেলত্তির। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পেশির ইনজুরিতে নেইমার মাঠের বাইরে ছিটকে যাওয়ায় তখনই তার দলে ফেরার সম্ভাবনা ফিকে হয়ে যায়। কোচ আনচেলত্তিও এই ইনজুরিতে বেশ অসন্তুষ্ট ছিলেন।
২০২৩ সালের সেই ভয়াবহ হাঁটুর চোটের পর থেকে নেইমারকে আর হলুদ জার্সিতে দেখা যায়নি। চোট কাটিয়ে পুরনো ছন্দে ফিরতে সৌদি আরবের ক্লাব ছেড়ে নিজ দেশের ফুটবলে ফিরে এসেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে কিছুটা ঝলক দেখালেও কোচের মন ভরাতে তা যথেষ্ট ছিল না। আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেছেন:
“নেইমার বিশ্বকাপে যেতে পারে, যদি সে শতভাগ ফিট থাকে। এখন তাকে দলে নেইনি কারণ সে এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তাকে নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচ খেলে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।”
দলে জায়গা না পেয়ে নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখেননি ব্রাজিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় নেইমার জানান:
“দলে ডাক না পেয়ে আমি সত্যিই ব্যথিত ও হতাশ। তবে আমার মনোযোগ সরছে না। প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রম আর ম্যাচের মধ্য দিয়ে আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাব। আমার বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে।”
নেইমার না থাকলেও এবারের স্কোয়াডে বড় চমক ১৯ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি এন্দ্রিক। ফরাসি লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে এক বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে, তার আগে জুনের শুরুতে মিশরের বিপক্ষে শেষবারের মতো নিজেদের ঝালিয়ে নেবে আনচেলত্তির শিষ্যরা।