বিসিবি’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ এখন সুতোয় ঝুলছে। গত নির্বাচনের অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তবে তার আগে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি-কে পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
রবিবার সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। বিকেএসপি পরিদর্শনকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, রিপোর্টটি পাওয়ার পরপরই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনটি আইসিসি-কে অবগত করার পরেই আমরা পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।” মূলত আইসিসি’র গাইডলাইন মেনে এবং তাদের সাথে সমন্বয় করেই বিসিবি নিয়ে এগোতে চায় সরকার।
এদিকে, এই তদন্ত কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। তার অভিযোগ, বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ভয় দেখিয়ে বা পদের লোভ দেখিয়ে বিসিবি পরিচালকদের পদত্যাগ করাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, এখন পর্যন্ত বিসিবি’র ৭ জন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে শনিবার এক দিনেই সরে দাঁড়িয়েছেন ৪ জন। আসিফ মাহমুদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে আমিনুল হক বলেন, “ফেসবুকে সত্য-মিথ্যা অনেক কিছুই দেখি। তিনি কতটা সত্য বলেছেন, সেই বিচারের ভার আমি আপনাদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।”
তদন্ত কমিটি আলোচনার জন্য আসিফ মাহমুদকে ডাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে এবং তারা সেটি যাচাই-বাছাই করেছেন। এখন সবার নজর আইসিসি’র প্রতিক্রিয়ার দিকে, কারণ তাদের সবুজ সংকেত পেলেই বিসিবি’র বর্তমান কমিটির ভাগ্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসতে পারে।